পাক ক্রিকেটে গড়াপেটার অভিযোগ ভুরি ভুরি। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হতে চলেছে? এমনটাই মনে করছে ক্রিকেটমহল। বিতর্কের সূত্রপাত পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-২০ লিগের একটি ম্যাচে। খেলা চলাকালীন নো-বল করেন এক বোলার। সেই ছবি ভাইরাল হতেই নেটদুনিয়ায় তুমুল হইচই। অনেকেই দাবি করেছেন, ওই বোলার গড়াপেটা করেছেন। অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০১০ সালে নো-বলের মাধ্যমেই গড়াপেটা করেছিল পাকিস্তানের জাতীয় দল।
গত শনিবার পাকিস্তানের জাতীয় টি-২০ লিগের ম্যাচ খেলছিল করাচি এবং লাহোর। ওই ম্যাচে এক ওভারে ২১ রান দেন করাচির পেসার আসাদ আখতার। সেই ওভারে দু'টি ওয়াইড এবং দু'টি নো বল করেন। তার মধ্যে একটি নো বল নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। ছবি ভাইরাল হতে দেখা যাচ্ছে, ক্রিজ থেকে অনেকখানি বেরিয়ে রয়েছে বোলারের পা। সচরাচর বোলারের পা এতখানি বেরিয়ে আসে না ক্রিজ থেকে। বিরাট নো বল দেখেই নেটদুনিয়ায় চর্চা শুরু হয়েছে, আসাদ কি গড়াপেটা করেছেন? ইচ্ছাকৃত নো বল করছেন ম্যাচে?
ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকেরই মনে পড়ে যাচ্ছে ২০১০ সালের গড়াপেটা বিতর্ক। সেবছর ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়েছিল পাকিস্তান। লর্ডসে টেস্ট চলাকালীন একাধিকবার নো বল করেন দুই পেসার মহম্মদ আমির এবং মহম্মদ আসিফ। সমস্তটাই জানতেন তৎকালীন পাক অধিনায়ক সলমন বাট। তাঁর নির্দেশেই দুই পেসার নো বল করেছিলেন। পরে জানা যায়, এক জুয়াড়ির সঙ্গে মিলে ম্যাচ গড়াপেটা করেছেন পাক ক্রিকেটাররা। এক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তদন্তে উঠে আসে গোটা বিষয়টি।
অভিযুক্ত তিন পাক ক্রিকেটারকে শাস্তি দেওয়া হয়। নির্বাসনে পাঠায় আইসিসি। বিশ্বক্রিকেটে পাকিস্তানের মুখও পোড়ে। কিন্তু সাত বছর পর আবারও পাক ক্রিকেটে গড়াপেটার ছায়া পড়ে। পাকিস্তান সুপার লিগের একাধিক ম্যাচে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করা হয়। আরও বহু ক্ষেত্রে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে গড়াপেটার অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু প্রমাণ মেলেনি। সেকথা মাথায় রেখেই নেটিজেনরা বলছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নো বল করে কি পূর্বসূরিদেরই অনুসরণ করছেন আসিফ?
