অজিঙ্ক রাহানে বরাবরই খুব চুপচাপ। খুব বেশি কথা বলেন না। পারলে বিতর্ক থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে থাকেন। হায়দরাবাদ সানরাইজার্সের কাছে ঘরের মাঠে হারের পর কেকেআর অধিনায়ককে যখন তাঁর স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন করা হল, আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাইরে থেকে কারা কী বলছেন, তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। তাঁর স্ট্রাইক রেট নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা হয় খেলা বোঝেন না, না হয় তাঁর খেলা নিয়ে হিংসে করেন।
বৃহস্পতিবার ইডেনে রাহানে তেমন কিছুই করতে পারেননি। কিন্তু এটাও ঠিক ওয়াংখেড়েতে দুর্ধর্ষ ব্যাটিং করেছেন। গতবছর কেকেআরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন। স্টাইক রেটেরও প্রভূত উন্নতি হয়েছে। তারপরও যখন তাঁর স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন আর মেজাজ ঠিক রাখতে পারলেন না। বলছিলেন, "নিজে জানি আমি কী করছি। নিজের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। ২০২৩ থেকে আমার স্ট্রাইক রেট যথেষ্ট ভালো। তাই বাইরে থেকে কে কী বলছেন, সেটা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছি না। কিন্তু যাঁরা বলছেন, তাঁরা হয় ক্রিকেটটা বোঝে না। না হয় আমাকে নিয়ে হিংসা করে। অনেকে হয়তো চায় না যে আমি আর খেলি।"
তবে রাহানে একইসঙ্গে এটা স্বীকার করে নিয়েছেন, টিম কম্বিনেশন নিয়ে এখনও তাঁরা সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এবং বরুণ চক্রবর্তী স্ট্রাগল করছেন। বরুণ অফ ফর্ম সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে চলছে। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে প্রথম ওভারে ২৫ রান দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতি হয়েছে, তাঁকে দিয়ে দু'ওভারের বেশি বোলিং করাতে পারলেন না রাহানে। যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কেকেআর অধিনায়ক বললেন, "এটা ঠিক যে বরুণ স্ট্রাগল করছে। ওকে দিয়ে যে চার ওভার বোলিং করাতে হবে, সেরকম তো কোনও মানে নেই। পরিস্থিতি দেখে তা ঠিক করতে হয়। নারিনেরও যদি কোনও দিন খারাপ যায়, তখন দেখবেন ও দু'তিন ওভার বোলিং করছে।"
কেকেআরের আরও বড় সমস্য হল, ক্যামেরন গ্রিনের বোলিং না করা। যা আরও বেশি সমস্যায় ফেলে দিচ্ছে নাইটদের। যার জন্য একজন বাড়তি বোলার খেলাতে হচ্ছে। রাচিন রবীন্দ্র, রভম্যান পাওয়েলদের মতো ক্রিকেটারকে বাইরে থাকতে হচ্ছে। রাহানে বলছিলেন, "গ্রিন হয়তো খুব তাড়াতাড়ি বোলিং শুরু করবে। তখন আমাদের কম্বিনেশন অন্যরকম হবে। বিকল্প অনেক বেড়ে যাবে। তবে আপাতত একজন বাড়তি বোলার খেলানো ছাড়া আর কোনও উপায় নেই আমাদের কাছে। কারণ ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে গেলে বোলারকে বসাতে হবে। আমাদের বোলিং ইউনিটে বেশ কিছু তরুণ মুখ রয়েছে। যারা খুব একটা অভিজ্ঞ নয়। এখন যদি দু'জন স্পিনার আর তিনজন পেসার নিয়ে নামা হয়, তখন কোনও একজন বোলারের খারাপ ফর্ম গেলেই সমস্যা বাড়বে। এদিন যেমন অনুকূল মাঝে দুটো ওভার করল। ওই দুটো ওভার আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।'
তবে হারলেও টিমের পাশেই দাঁড়াচ্ছেন কেকেআর অধিনায়ক। তাঁর কথায়, "আইপিএলে প্রথম একটা-দুটো ম্যাচ বেশিরভাগ টিমকেই কম্বিনেশন সংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে হয়। আসল হল ড্রেসিংরুমের মধ্যে বিশ্বাস থাকা। আমি প্রত্যেককে ব্যাক করছি। টিমের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস আর আস্থা রয়েছে।"
