জিতলে টেবিলের শীর্ষে উঠবে দল। সঙ্গে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া যাবে প্লে-অফের দিকে। মঙ্গলবার আহমেদাবাদে গুজরাট টাইটান্স বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ লড়াইয়ের অঙ্কটা ছিল পরিস্কার। আর সেই ম্যাচে টাইটান্সের দাপুটে বোলিংয়ে উড়ে গেলেন ঈশান কিষানরা। একপেশে জয়ে শুধু লিগ শীর্ষে ওঠাই নয়, প্লেঅফও একপ্রকার নিশ্চিত করে ফেলল গুজরাট।
টি-টোয়েন্টিতে বড় রান করার ক্ষেত্রে পাওয়ারপ্লে ঠিকমতো কাজে লাগানোর গুরুত্ব অনেকটাই। এদিন আহমেদাবাদে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সেই কাজটা করতে পারেনি টাইটান্স। প্রথম ছ’ওভারে মাত্র ৩৪ রান তুলতেই দু’উইকেট হারায় তারা। রান পেলেন না শুভমান গিল (৫) এবং জস বাটলার (৭)। নিশান্ত সিন্ধু (২২) ইনিংস লম্বা করতে পারেননি ভালো শুরু করেও। সাই সুদর্শন ৬১ রানের ইনিংস খেলে কিছুটা লড়াইয়ে ফেরান টাইটান্সকে। মাঝের দিকে সুদর্শনের সঙ্গে ওয়াশিংটন সুন্দরের ৬০ রানের পার্টনারশিপ শুভমান গিলদের লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেয়। শেষদিকে কয়েকটা ভালো শট খেলে দলকে ১৬৮-৫ স্কোরে পৌঁছে দিলেন ওয়াশিংটন (৫০)। এদিন দুরন্ত বোলিং করলেন সানরাইজার্সের দুই তরুণ পেসার প্রফুল্ল হিঙ্গে এবং সাকিব হুসেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১৬৮ রানে শেষ হয় সানরাইজার্স ইনিংস।
এই রান দেখে মনে হচ্ছিল সানরাইজার্স হয়তো অনায়াসে লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। কিন্তু এরপর টুইস্ট। সানরাইজার্স পেসারদের এদিন ছাপিয়ে গেলেন গুজরাটের পেসাররা। এদিন শুরুতেই ব্যর্থ হন ‘ট্রাভিষেক’। ট্রাভিস হেড রানের খাতা খুলতে পারেননি। অভিষেক শর্মাও (৬) রান পেলেন না। শুরু থেকেই সেই যে উইকেট পড়ার পালা শুরু হল, সেটা যেন থামতেই চাইছিল না। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়াটাই দস্তুর হয়ে দাঁড়াল। যার ফলশ্রুতি মাত্র ৮৬ রানেই শেষ সানরাইজার্সের ইনিংস। ৮২ রানের বিরাট ব্যবধানে জিতলেন গিলরা। রাবাডা এবং হোল্ডার তিনটি করে উইকেট পেলেন।
এই জয়ের ফলে গুজরাট টাইটান্স শুধুমাত্র পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল তাই নয়। একই সঙ্গে প্লেঅফে এক পা বাড়িয়ে ফেলল। আপাতত ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তাঁরা লিগ শীর্ষে। নেট রান রেটও বেশ ভালো। বড় কোনও অঘটন না ঘটলে এই পয়েন্ট নিয়েই প্লে-অফে উঠে যাওয়ার কথা গিলদের। তবে আর একটি ম্যাচ জিতলে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হবেন তাঁরা। অন্যদিকে এই বড় ব্যবধানে হারের ফলে সানরাইজার্সের শেষ দু'ম্যাচ জেতাটা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াল।
