উমরান মালিক, ময়ঙ্ক যাদবের পর ভারতীয় ক্রিকেটে নয়া গতিদানবের আবির্ভাব। শনিবার রাতে ২০২৬ আইপিএলের দ্রুততম বলটি করলেন গুজরাট টাইটান্সের আনকোরা ভারতীয় পেসার অশোক শর্মা। ইনিংসের ১৬-তম ওভারে অশোক একটি বল করলেন ১৫৪.২ কিমি প্রতি ঘণ্টার গতিবেগে।
ওই দ্রুতগতির বলটির লাইন-লেংথও ছিল বেশ ঈর্ষনীয়। অশোকের নিক্ষেপ করা ওই গোলার মতো ইয়র্কার থেকে উইকেট বাঁচাতে কোনওমতে ব্যাট নামিয়ে ডিফেন্ড করলেন ধ্রুব জুরেল। কোনওক্রমে উইকেট বাঁচালেও তিনি বুঝতেই পারেননি বলটি গেল কোথায়। শুধু ওই একটা নয়, অশোক ধারাবাহিকভাবে ১৪৫-১৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় বোলিং করছেন এই আইপিএল। ২৩ বছরের এই যুবক তাঁর ৪ ওভারের স্পেলে তিনবার ১৫০ কিমি-র গণ্ডি ছাড়িয়ে বল করেন। শনিবার রাজস্থানের ওই প্রথম সারির ব্যাটিং বিভাগের বিরুদ্ধেও ৩৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন।
অশোকের আইপিএল জার্নি সহজ ছিল না। এ বছরই আইপিএলে অভিষেক হয়েছে তাঁর। ২৩ বছরের ওই তরুণ এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং রাজস্থান রয়্যালসের ক্যাম্পে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি অশোক। এমনকী ক্রিকেট ছেড়ে চাষবাস করার কথাও ভাবে শুরু করেছিলেন তিনি। অশোকের দাদা অক্ষয়ও ক্রিকেট খেলতেন। পরিবারের অনটন কাটাতে ভাইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে অক্ষয় ক্রিকেট ছাড়েন। অশোক খেলা চালিয়ে যান। তারপর এ বছর গুজরাট টাইটান্স ৯০ লক্ষ টাকায় তাঁকে কেনে। মরশুমের শুরুতেই বেশ নজর কাড়ছেন তিনি।
যদিও অশোকের ওই ভালো স্পেল গুজরাটকে মরশুমের প্রথম জয় এনে দিতে পারেনি। বৈভব সূর্যবংশী-ঝড়। যশস্বী জয়সওয়ালের হাফসেঞ্চুরি। ধ্রুব জুরেলের দারুণ একটা ইনিংস। এবং শেষ দু'ওভারে জোফ্রা আর্চার এবং তুষার দেশপান্ডের দূরন্ত বোলিংয়ে শেষে ম্যাচ জিতে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। রান উৎসবের পিচে জিততে শেষ দু'ওভারে ১৫ রান প্রয়োজন ছিল গুজরাতের। সাই সুদর্শনের (৭৩) অনবদ্য ইনিংসের ধাক্কা সামলে নিয়েছিল রাজস্থান। তবে শেষে রশিদ খান (২৪) আর কাগিসো রাবাদা (২৩ ন.আ) ব্যাট হাতে রুখে দাঁড়ালেন। ফলে ২১০-৬ স্কোর করা জুরেলরা বেশ চাপে ছিলেন। যদিও সেই অবস্থা থেরে জ্বলে উঠলেন আর্চার-তুষার। শেষ দু'ওভারে দুই পেসারই দিলেন ৪ রান করে। ফলে গুজরাট থামল ২০৪-৮ স্কোরে। রাজস্থান ম্যাচ জিতল ৬ রানে।
