বিরাট কোহলি এক চলমান বিস্ময় বটে! বয়সের সঙ্গে প্লেয়ারের ক্রিকেটীয় স্কিলের লয়-ক্ষয় ঘটে, ঘাটতি পড়ে তার ফিটনেসে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সে যত দূরে সরে, তত হারিয়ে যায় তার ধারাবাহিকতা। পৃথিবীর বাদবাকি ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য। শুধু বিরাট কোহলির ক্ষেত্রে নয়।
বিরাট শেষ বার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটে অবতীর্ণ হয়েছিলেন চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে। তার পর থেকে আর মাঠে দেখা যায়নি প্রাক্তন ভারত অধিনায়ককে। তার পর নামলেন তিনি শনিবার, আরসিবি'র জার্সিতে, আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে। আর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে তিনি নেমে কী করলেন? দু’শো প্লাস তাড়া করতে নেমে ৩৮ বলে ৬৯ নট আউট! যা রীতিমতো মুগ্ধ করে দিয়েছে আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদারকে।
‘‘বিরাট কোহলির ক্রিকেটকে ব্যাখ্যা করতে বোধহয় কোনও বিশেষণই যথেষ্ট নয়। ও ক্রিজে থাকলে, কোনও রান তোলাই অসাধ্য দেখায় না। সাধে কী আর বিরাট এক নম্বর ব্যাটার,’’ ম্যাচ জিতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে বলে যান রজত। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে আরও বলেন, ‘‘বিরাট হল চেজমাস্টার। ডাগআউট থেকে ওর ব্যাটিং দেখতে আমার সব সময় ভালো লাগে। যেভাবে পরিস্থিতি অনুপাতে বিরাট ব্যাটিং করে গেল, যে সমস্ত শট খেলল, এক কথায় অসাধারণ। আর আমার একার নয়। আমাদের কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারেরও দারুণ লাগে কোহলির ব্যাটিং দেখতে। আর নিজের কথা কী-ই বা বলব? বিরাট আমার নিজেরই অনুপ্রেরণা। আমার আদর্শ। আমি তো বিরাটের নেট থেকে অনেক কিছু শিখি। যেভাবে একই রকম এনার্জি নিয়ে নেটে ব্যাটিং করে, পারফর্ম করার জন্য যতটা ক্ষুধার্ত থাকে, যেভাবে খেলাকে শাসন করতে চায়, প্রত্যেকটা বিষয় দেখার মতো।’’
আরসিবি অধিনায়ক বলেন, "নিজের কথা কী-ই বা বলব? বিরাট আমার নিজেরই অনুপ্রেরণা। আমার আদর্শ। আমি তো বিরাটের নেট থেকে অনেক কিছু শিখি। যেভাবে একই রকম এনার্জি নিয়ে নেটে ব্যাটিং করে, পারফর্ম করার জন্য যতটা ক্ষুধার্ত থাকে, যেভাবে খেলাকে শাসন করতে চায়, প্রত্যেকটা বিষয় দেখার মতো।"
আরসিবি অধিনায়ককে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, টিম ইন্ডিয়ার ধুঁয়াধার ব্যাটিং নীতি অনুসরণ করছে কি না আরসিবি? গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফাইনাল-সহ টুর্নামেন্টে একাধিক বার আড়াইশোর বেশি রান তুলেছিল ভারত। জাতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর বারবার বলে এসেছেন যে, ‘হাই রিস্ক, হাই রিওয়ার্ড’ ক্রিকেট তাঁর পছন্দ। টিমের কাছ থেকে ১৬০-১৭০ রানের ক্রিকেট তিনি চান না। চান, টিম ২৫০-৬০ রানের ক্রিকেট খেলুক। তাতে যদি এক-আধদিন একশো অলআউট হতে হয়, অসুবিধে নেই। চলতি আইপিএলে আরসিবিও কি গম্ভীরের সেই অতি আগ্রাসী ক্রিকেট নীতি অনুসরণ করবে? কারণ, সানরাইজার্সের দেওয়া ২০২ রানের টার্গেট ছাব্বিশ বল বাকি রেখে তুলে দিয়েছেন বিরাটরা। জবাবে পাতিদার বললেন, ‘‘নীতি বলব না। আমরা উইকেট জরিপ করে দেখে বুঝেছিলাম, পিচ যথেষ্ট ভালো। রান তাড়া করার ভিত তৈরি করে দিয়েছিল পাড়িক্কল আর বিরাটের ইনিংস।’’
একই সঙ্গে রজত জানিয়ে দিয়েছেন যে, আইপিএল ট্রফি নিজেদের কাছে রেখে দেওয়ার শপথ নিয়ে তাঁরা খেলতে নামেননি। ‘‘আমরা সেই মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামিনি। ২০২৫ সালে যা করেছি আমরা, তা অতীত। আমরা মাথা থেকে বের করে দিয়েছি যে, আমরা গতবারের চ্যাম্পিয়ন,’’ বলতে থাকেন আরসিবি অধিনায়ক। তাহলে এবার তাঁদের মানসিকতাটা কী? ‘‘খুব সহজ। যা যা করা দরকার, সঠিকভাবে করে যাও। দিন শেষে সেটাই তোমাকে ট্রফি জিতিয়ে দেবে।’’
আর বিরাট কোহলি, তিনি কী বলছেন? প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন মাত্র একটা ফরম্যাট খেলেন বলে যে বিশ্রাম তিনি পান, তাতে তাঁর আদতে লাভই হয়েছে। গতকাল খেলা শেষে কোহলি বলছিলেন, ‘‘গত পনেরো বছর ধরে ঠাসা ক্রিকেটসূচি অনুযায়ী খেলে যেতে হয়েছে আমাকে। প্রচুর ম্যাচ খেলেছি। সব সময়ই আউট হয়ে যাওয়ার একটা ঝুঁকি ছিল। তাই এখন এই ব্রেকগুলো পেয়ে আমার সুবিধেই হয়েছে। তাজা থাকতে পারছি। খেলা উপভোগ করছি।’’ কোহলি জানিয়ে দিয়েছেন যে, একশো শতাংশ দিতে পারার অবস্থায় না থাকলে, তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করেন না। বলেছেন, ‘‘আমি যখন খেলতে আসি, সব সময় একশো কুড়ি শতাংশ দেওয়ার অবস্থায় থাকি। সেটা দিতে না পারলে, আমি খেলতে নামি না। আন্ডার প্রিপেয়ার্ড অবস্থায় খেলার কোনও ইচ্ছে আমার নেই।’’
