রাম-বাম জোটের পরিণামে বড়সড় ক্ষতি থেকে সতর্ক কমরেডকুল! তৃণমূল বিরোধিতায় গেরুয়া শিবিরে যাওয়া ভোট ফিরবে কি না, সেই অনিশ্চয়তা নিয়েই নিচুতলায় সমীক্ষা চালাচ্ছে সিপিএম। ছাব্বিশের ভোটের আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ বাম-সমর্থকদের বিজেপির বিপদ সম্পর্কে বোঝাচ্ছেন সিপিএম কর্মীরা। সূত্রের খবর, শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এমনই নির্দেশ এসেছে শাখাস্তরে।
টানা ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্ট এখন শূন্যের গেরো কাটাতে তৎপর। একুশের নির্বাচনে একটিও আসন না পাওয়া বামেদের বিভিন্ন সময় খোঁচা দেয় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বিভিন্ন ইস্যুতে বাম নেতাদের শুনতে হয়, 'ওরা তো শূন্য'। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনও বামেদের কাছে কঠিন লড়াই। এবার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হয়নি বামেদের। আইএসএফের সঙ্গে ২৯টি আসনে সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু, আইএসএফ এমন একাধিক আসনে প্রার্থী দিয়েছে, যেখানে বামফ্রন্ট ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বা করার কথা রয়েছে। ফলে আইএসএফের সঙ্গে জোটের জট পুরোপুরি কাটেনি।
একদা লড়াইটা ছিল বাম বনাম তৃণমূল। এখন তা দাঁড়িয়েছে তৃণমূল বনাম বিজেপিতে। রাজ্য রাজনীতির ভোট সমীকরণে বামেরা ক্রমেই প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হিসাব ছিল বিজেপি ৩৮ শতাংশ, সিপিএম ৪.৭১ শতাংশ। আবার ২০২৪ লোকসভা ভোটে বিজেপি যেখানে ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, সেখানে জোটে সিপিএম ৫.৭৩ শতাংশ ও কংগ্রেস পেয়েছিল ৪.৭২ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, বামেদের বড় অংশের ভোটই বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে।
এর মাঝেই বিজেপিতে চলে যাওয়া ভোট ফেরাতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে সিপিএম। পার্টির এক জেলা নেতার কথায়, "কোন বুথে কোন ভোটাররা আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছিলেন, তাঁদের কাছেই আমরা যাচ্ছি। সেইসব বাড়িতেই যাওয়া হচ্ছে যাঁরা বিগত কয়েকটা নির্বাচনে আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।"শাখাস্তরে সমীক্ষা করে সিপিএম নেতারা চিহ্নিত করছেন সেই সব ভোটারদের, যাঁরা একটা সময়ে বাম সমর্থক ছিলেন, দলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দূরে সরে গিয়েছেন। তাঁদের ভোট সরাসরি বিজেপিতে গিয়েছে বলেই মনে করছে সিপিএম।
প্রসঙ্গত, একদা লড়াইটা ছিল বাম বনাম তৃণমূল। এখন তা দাঁড়িয়েছে তৃণমূল বনাম বিজেপিতে। রাজ্য রাজনীতির ভোট সমীকরণে বামেরা ক্রমেই প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হিসাব ছিল বিজেপি ৩৮ শতাংশ, সিপিএম ৪.৭১ শতাংশ। আবার ২০২৪ লোকসভা ভোটে বিজেপি যেখানে ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, সেখানে জোটে সিপিএম ৫.৭৩ শতাংশ ও কংগ্রেস পেয়েছিল ৪.৭২ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, বামেদের বড় অংশের ভোটই বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্য রাজনীতিতে বহু বছর ধরেই একটি কথার চল হয়েছে - বাম ভোট রামে গিয়েছে। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, উগ্র তৃণমূল বিরোধিতা করতে গিয়ে বিজেপির উপর আক্রমণের ধার কমিয়ে দিয়েছিল সিপিএম। যা নিয়ে বঙ্গ সিপিএমকে পার্টি কংগ্রেসের দলিলেও সতর্ক করেছিল কেন্দ্রীয় কমিটি। তাই এবার বিজেপিতে যাওয়া ভোট ফেরাতে আগেভাগে প্রচার শুরু করেছে সিপিএম। দলের কমরেডদের রীতিমতো প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠানো হচ্ছে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। এদিকে, 'কেন বিজেপি দেশের শত্রু'-এই সম্পর্কিত একটি প্রচার পুস্তিকাও প্রকাশ করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সাধারণ ভোটারদের হাতে হাতে তা তুলে দেবে তারা।
