প্রথম ম্যাচের আগে ন'দিনের মতো সময় রয়েছে। তার আগে কম্বিনেশন নিয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেরে রাখতে চাইছে কেকেআর। তবে আইপিএল শুরুর আগে আত্মবিশ্বাসী কলকাতা নাইট রাইডার্স। যদিও চোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা তো রয়েইছে। নাইটদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হল হর্ষিত রানার না থাকা। সেক্ষেত্রে পরিবর্ত হিসাবে কয়েকজনের নাম ভেসে আসছে। সব কিছুই উঠে এসেছে কেকেআরের শুক্রবারের সাংবাদিক সম্মেলনে।
আইপিএলকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী অজিঙ্ক রাহানে। দলের ব্যাটিং ইউনিট নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ব্যাটিং শক্তিশালী। বেশিরভাগই ফর্মে রয়েছে। প্রথম একাদশ ঠিক করা সহজ নয়। কারণ সবাই ভালো ছন্দে আছে।” গত মরশুমে আটে শেষ করেছিল কেকেআর। এবার ঘুরে দাঁড়ানোর বাড়তি তাগিদ নিয়েই মাঠে নামতে হবে নাইটদের। বাড়তি চাপ থাকবে? “প্রতি বছরই আলাদা চ্যালেঞ্জ থাকে। আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। দলকে নেতৃত্ব দেওয়া গর্বের বিষয়। চ্যালেঞ্জকে সব সময় সুযোগ হিসাবে দেখি। পারফেক্ট ম্যাচ বলে কিছু হয় না। আমরা ইউনিট হিসেবে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চাই,” মন্তব্য রাহানের।
নাইট অধিনায়ক বলেন, “প্রতি বছরই আলাদা চ্যালেঞ্জ থাকে। আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। দলকে নেতৃত্ব দেওয়া গর্বের বিষয়।"
আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বিদেশির তকমা এখন ক্যামেরন গ্রিনের নামে। অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডারকে মিনি নিলামে রেকর্ড ২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় কিনে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তিনি ওপেন নামবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ওপেনিং কম্বিনেশন ও ক্যামেরন গ্রিনের ভূমিকা নিয়ে কেকেআরের সহকারী কোচ শেন ওয়াটসন বলেন, “আমাদের ব্যাটিং অপশন অসাধারণ। যে কেউ যে কোনও জায়গায় খেলতে পারে। গ্রিন বিশ্বমানের ক্রিকেটার। সুযোগ পেলে বড় ভূমিকা নিতে পারে।”
চোটের কারণে হর্ষিত রানার অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা বলে মেনে নিয়েছেন মেন্টর অভিষেক নায়ার। “ও দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ওর বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে,” বলেন তিনি। সূত্রের খবর, নাম ঘোষণা না করলেও কয়েক জন পেসারকে পরিবর্ত হিসাবে ভেবে রাখছে নাইটরা। সিমারজিৎ সিং, নভদীপ সাইনির মতো জনা কয়েক পরিচিত পেসারকে ইতিমধ্যেই ট্রায়ালে ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, আরও কিছুদিন পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে আরও কয়েকজনকে দেখে নেওয়া হতে পারে।
আন্দ্রে রাসেলের মতো ফিনিশারের অভাবের কথাও স্বীকার করেছেন অভিষেক। “ওর মতো কাউকে রিপ্লেস করা সত্যিই কঠিন। তবে নতুনদের জন্য এটা সুযোগ। রিঙ্কু সিং-সহ অন্যরা দায়িত্ব নেবে।"
একইসঙ্গে আন্দ্রে রাসেলের মতো ফিনিশারের অভাবের কথাও স্বীকার করেছেন অভিষেক। “ওর মতো কাউকে রিপ্লেস করা সত্যিই কঠিন। তবে নতুনদের জন্য এটা সুযোগ। রিঙ্কু সিং-সহ অন্যরা দায়িত্ব নেবে,” মন্তব্য অভিষেকের। দলের 'স্টার-স্টাডেড' ডাগআউট নিয়েও আশাবাদী তিনি। তাছাড়াও তিনি বলেন, “আইপিএলের সৌন্দর্যই হল এমন, যেখানে অভিজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ থাকে। আমার দায়িত্ব বদলেছে, কিন্তু ভূমিকা নয়। আমি ওয়াটসন ও ডিজের (ডোয়েন ব্রাভো) অভিজ্ঞতার কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।”
গত মরশুমে চার থেকে আট নম্বর ব্যাটাররা সেভাবে সফল হননি। সেই 'ব্যর্থতা' প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টি পুরোপুরি মোমেন্টামের খেলা। তবে গত বছর কী হয়েছিল, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বর্তমান ফর্মই আসল।” অন্যদিকে বোলিং বিভাগ নিয়ে ডোয়েন ব্রাভো জানান, “কোনও টুর্নামেন্টেই সব খেলোয়াড়কে পাওয়া যায় না। আমাদের কাছে উমরান মালিক ও কার্তিক ত্যাগীর মতো তরুণ প্রতিভা আছে। স্পিন বিভাগও শক্তিশালী।”
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অনেকেই বরুণ চক্রবর্তী এক্স ফ্যাক্টর ধরছিলেন। কিন্তু শুরুটা ভালো করলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। নক আউট পর্বে হতাশ করেছেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপে যুগ্মভাবে সর্বাধিক উইকেট (১৪) নেওয়ার পরও খুব একটা ছন্দে নেই তিনি। যদিও 'রহস্য স্পিনারে'র ফর্ম নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। নাইট অধিনায়ক বলেন, “ওর মতো বোলারের কাছে প্রত্যাশা থাকেই। বিশ্বকাপের পর কিছুটা বিরতিতে রয়েছে। যা ওর জন্য ভালো হবে।” অভিষেক যোগ করেন, “আমরা চাই ও নিজের সেরা ফর্মে ফিরুক।” সবশেষে দলের লক্ষ্য স্পষ্ট করে অভিষেক জানান, “২৯ তারিখের আগে আমাদের একটি সম্পূর্ণ ফিট প্রথম একাদশ তৈরি করতে হবে।”
