আইপিএলের মাঝপথেই দেশে ফিরছেন ক্যামেরন গ্রিন? কলকাতা নাইট রাইডার্সের তারকা অলরাউন্ডারকে নিয়ে আচমকাই সংশয় তৈরি হয়েছে। এমনকী কেকেআর প্লেঅফে উঠলে গ্রিনকে ছাড়াই নামতে হতে পারে নাইটদের। কিন্তু আইপিএলের 'বিজনেস এন্ডে' হঠাৎ এমন জল্পনা তৈরি হল কেন?
আইপিএলে খেলা প্যাট কামিন্সদের ‘বাদ’ রেখেই দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আগামী পাকিস্তান সফরে কামিন্স ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া দলে দেখা যাবে না মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাজলউডকেও। তবে কেকেআর তারকা ক্যামেরন গ্রিনকে দলে রেখেছে তারা। সেই কারণেই প্রশ্ন উঠছে। অস্ট্রেলিয়া দলের পাকিস্তানে পৌঁছনোর কথা ২৩ মে। সেখানে তিনটে ওয়ানডে রয়েছে ৩০ মে, ২ ও ৪ জুন। কেবল পাকিস্তান সিরিজ নয়, বাংলাদেশ সফরেও বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে 'ব্রিগ থ্রি' প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউডকে। আইপিএল প্লেঅফ এবং সামনের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কথা মাথায় রেখে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাঁদের।
একই সঙ্গে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের দল গড়ার দিকেও নজর দিয়েছে নির্বাচকরা বলে জানিয়েছে অজি বোর্ড। ফলে তুলনামূলক তরুণ দল নিয়েই পাকিস্তানে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের নেতৃত্ব দেবেন মিশেল মার্শ। তিনি লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেলছিলেন। তবে ইতিমধ্যেই প্লেঅফের লড়াই থেকে ছিটকে গিয়েছে এলএসজি। তাই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে তাঁর কোনও অসুবিধা নেই।
কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ সূত্রে জানা যায়, নতুন চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ৩৭ কোটি টাকা পেতে পারেন কামিন্স। অর্থাৎ তিন বছরে ১১১ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয় তাঁকে। বর্তমানে আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলতে বছরে ১৮ কোটি টাকা পান তিনি। টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক কামিন্স। দেশের হয়ে খেলাকেই যাতে বেশি গুরুত্ব দেন, সেই কারণে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই মোটা অঙ্কের প্রস্তাব। শুধু কামিন্স নন, একই ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ট্র্যাভিস হেডকেও। তিনিও সানরাইজার্স শিবিরের সদস্য।
৩০ মে থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু আইপিএল তখনও চলবে। ৩১ মে ফাইনাল থাকায় আইপিএলে ব্যস্ত ক্রিকেটারদের পাকিস্তান সফরে পাঠানো হচ্ছে না। যদিও ক্যামেরন গ্রিনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানেনি অস্ট্রেলিয়া বোর্ড। তবে তাঁর আইপিএল খেলা নিয়ে এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি অজি বোর্ড বা কলকাতা নাইট রাইডার্স কর্তৃপক্ষ। গ্রিন অজি দলে থাকায় নিশ্চিতভাবেই চাপে থাকবে কেকেআর। নেটিজেনদের প্রশ্ন, তাহলে কি কলকাতা প্লেঅফে থাকবে না ধরেই নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া? নাকি আইপিএলের 'বিজনেস এন্ডে' দেশে ফিরছেন অজি অলরাউন্ডার?
গ্রিন অজি দলে থাকায় নিশ্চিতভাবেই চাপে থাকবে কেকেআর। নেটিজেনদের প্রশ্ন, তাহলে কি কলকাতা প্লেঅফে থাকবে না ধরেই নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া?
অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান জর্জ বেইলি বলেন, "পাকিস্তান সফর আমাদের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য দারুণ সুযোগ। কঠিন বিদেশ সফরের চাপ তারা কীভাবে সামলায়, সেটা দেখার জন্য এই সিরিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" জানা গিয়েছে, জুনে বাংলাদেশ সফরে আবার জাতীয় দলে ফিরবেন ট্র্যাভিস হেড। তাঁর সঙ্গে যোগ দেবেন কুপার কনোলি, জেভিয়ার বার্টলেট এবং বেন ডোয়ারশুইস। উপমহাদেশের স্পিন সহায়ক উইকেটের কথা মাথায় রেখে ম্যাথিউ কুহনেম্যান এবং তানভির সাংঘাকেও দুই সিরিজেই রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য আরও পরিবর্তন আনা হয়েছে দলে। সুযোগ পেয়েছেন অ্যারন হার্ডি, স্পেনসার জনসন এবং তরুণ জোয়েল ডেভিস। এছাড়া টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন জশ ফিলিপ। সব মিলিয়ে পরিষ্কার, যত বড় অঙ্কের চুক্তিই হোক না কেন, আইপিএল এখন অস্ট্রেলিয়ার সূচিকেও প্রভাবিত করছে।
পাকিস্তান সফরের ওয়ানডে দল:
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), অ্যালেক্স কেরি, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, জশ ইংলিশ, ম্যাথিউ কুহনেম্যান, মার্নাস লাবুশানে, রাইলি মেরেডিথ, অলিভার পিক, ম্যাথিউ রেনশ, তানভির সাংঘা, লিয়াম স্কট, ম্যাট শর্ট, বিলি স্ট্যানলেক এবং অ্যাডাম জাম্পা।
বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে দল:
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কুপার কনোলি, বেন ডোয়ারশুইস, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, ট্র্যাভিস হেড, জশ ইংলিশ, ম্যাথিউ কুনেমান, মার্নাস লাবুশানে, ম্যাথিউ রেনশ, তানভির সাংঘা, লিয়াম স্কট, অ্যাডাম জাম্পা।
বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল:
মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনোলি, টিম ডেভিড, জোয়েল ডেভিস, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যারন হার্ডি, ট্র্যাভিস হেড, জশ ইংলিশ, স্পেনসার জনসন, ম্যাথিউ কুনেমান, রাইলি মেরেডিথ, জশ ফিলিপ।
