ইডেন কেকেআরের ঘরের মাঠ। তবে লক্ষ্মীবারে ‘অতিথি’ লখনউ সুপার জায়ান্টস ভরসা রাখছে ইডেনের এক ‘ঘরের ছেলে’র উপরে। কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি উড়িয়ে যদি শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হয়, তবে প্রতিপক্ষ টপ অর্ডারকে তছনছ করার গুরুদায়িত্ব থাকবে তাঁর উপরেই।
এলএসজি-র ভরসার নাম মহম্মদ শামি। ইডেনের জল-হাওয়া-মাটিতে লালিত হয়েছেন যিনি। তাঁর সম্ভাবনাময় তরুণ থেকে ক্রিকেটবিশ্বে তারকা হওয়ার যাত্রাপথ বারবারই ছুঁয়ে যায় ইডেনে। সাম্প্রতিক কালে চোটের দীর্ঘ প্রহর কাটিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে মূলস্রোতে ফেরার সূচনাটা এই মাঠেই মরশুমের শুরুতে করেছিলেন শামি। বাংলার জার্সিতে, ঘরোয়া ক্রিকেটে। সেখানে করা পারফরম্যান্সের ফল আইপিএলে পাচ্ছেন তিনি। প্রতিযোগিতায় নিজের প্রথম বলে নিয়েছেন কেএল রাহুলের উইকেট। আর দ্বিতীয় ম্যাচে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন গোটা সানরাইজার্স ব্যাটিংকে, সঙ্গে অভিষেক শর্মা আর ট্রাভিস হেডের মহার্ঘতম দু’টো উইকেট। দু’ম্যাচ মিলিয়ে তিনটে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি আট ওভারে শামি দিয়েছেন মাত্র ৩৭ রান, টি-টোয়েন্টির বিচারে যা দুর্দান্ত বোলিং। ইডেনে বৃহস্পতিবার কেকেআরের বিরুদ্ধে তাঁর এমন ফর্ম অব্যাহত থাকলে এলএসজি-র হাসি যে চওড়া হবে, বলাই বাহুল্য।
শামি নিজেও তফাত গড়ে দিতে মরিয়া। এলএসজি-র স্পিন বোলিং কোচ কার্ল ক্রো শোনাচ্ছিলেন সে কথা। “শেখার কোনও বয়স হয় না। সামির কথাই ধরুন। শেষ ম্যাচে অভিষেককে যে বলটায় আউট করল। সেটা নিয়ে ভরত অরুণের সঙ্গে চারদিন কাজ করেছে সামি। চারদিনে বলটা শিখে কাজে লাগিয়েছে। এজন্য ভরতের কোচিংয়ের সঙ্গে শামির প্রশংসাও করতে হবে। সিনিয়র প্লেয়ার হয়েও নতুন কিছু শেখার আগ্রহ প্রচুর।” অতীতে ভরত ভারতীয় দলের সাপোর্ট স্টাফ থাকার সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সেরা ফর্মে ছিলেন শামি। এবার আইপিএলেও গুরু-শিষ্যর সেই জুটি সোনা ফলাচ্ছে এলএসজি-র হয়ে। বুধবার অবশ্য ইডেনে বোলিং করেননি শামি। তবে সেসব নিয়ে ভাবছে না এলএসজি শিবির। ক্রো বলছিলেন, “প্রথম দু’টো ম্যাচে আমাদের বোলিং খুব ভালো হয়েছে। আর শামি যে মানসিকতা নিয়ে খেলছে, দুর্দান্ত।”
সানরাইজার্সকে তাদের ঘরের মাঠে হারানোর আত্মবিশ্বাসে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে এলএসজি। ক্রো প্রতিপক্ষকে সম্মান-টম্মান দেওয়ার চেনা পঙক্তি আওড়ে গেলেন বটে। তবে শামি-পন্থরা যে ফর্মে রয়েছেন, তাতে ধারেভারে ‘অতিথিরা’ই কিছুটা এগিয়ে। এদিন বৃষ্টির জন্য নির্ধারিত সময়ের পুরোটা প্র্যাকটিস করতে পারেনি এলএসজি। তারমধ্যেই দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করলেন মিচেল মার্শ, নিকোলাস পুরান, আবদুল সামাদরা। ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থও ব্যাট করলেন কিছুক্ষণ। আর্শদ খান, মণিমারন সিদ্ধার্থ, প্রিন্স যাদবরা নেটে বোলিং করলেন পুরোদমে। তবে নেটের ধারেকাছে গেলেন না এলএসজি-র ‘স্পিডস্টার’ মায়াঙ্ক যাদব। কেকেআর ম্যাচে তাঁর খেলার সম্ভাবনা বেশ কম। তাঁর প্রসঙ্গে ক্রো শুনিয়ে গেলেন, “আমাদের আট-নয়-দশজন ভালো পেসার রয়েছে। ফলে দলে জায়গা করে নেওয়াটা সহজ হবে না কারও জন্য।”
