আগামী রবিবার ওয়াংখেড়েতে যদি কেকেআর (KKR) পেসার বৈভব অরোরাকে বিশেষ এক স্লোয়ার ডেলিভারি করতে দেখা যায়, তাহলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা পেসার লুঙ্গি এনগিডি এক বিশেষ ধরনের স্লোয়ার করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। সাফল্যও পেয়েছিলেন অকাতর। গত কয়েক দিন ধরে কেকেআর ট্রেনিংয়ে যা রপ্ত করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন বৈভব।
কেকেআরের বোলিংটা এবার দেখছেন দু’জন মিলে। সম্মিলিতভাবে। প্রাক্তন নিউজিল্যান্ড পেসার টিম সাউদি। যিনি বর্তমানে কেকেআরের বোলিং কোচ। আর টিম মেন্টর ডোয়েন ব্র্যাভো। আইপিএল খেলতেন যখন, ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট ছিলেন ব্র্যাভো। তাঁর ওয়াইড ইয়র্কারের হদিশ পাওয়া মুশকিল হয়ে যেত ব্যাটারদের পক্ষে। সম্প্রতি বৈভব বলছিলেন, ‘‘আমিও ডেথ ওভার বোলিং নিয়ে পরিশ্রম করছি। নানা বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছি বোলিংয়ে। ডিজে ব্র্যাভোর সঙ্গে খাটখাটনি করছি ইয়র্কার নিয়ে। একই সঙ্গে স্লোয়ার ডেলিভারি আরও ভালো রপ্ত করার চেষ্টা করছি। যে স্লোয়ার ডেলিভারিটা বিশ্বকাপের সময় লুঙ্গি এনগিডি দিত, সেটা প্রয়োগ করার চেষ্টা করছি আমি।’’
বৈভব বলছিলেন, ‘‘আমিও ডেথ ওভার বোলিং নিয়ে পরিশ্রম করছি। নানা বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছি বোলিংয়ে। ডিজে ব্র্যাভোর সঙ্গে খাটখাটনি করছি ইয়র্কার নিয়ে।’’
হর্ষিত রানা, আকাশ দীপরা আইপিএল থেকে ছিটকে যাওয়ায় এবার নাইট পেস ব্যাটারির দায়ভার আপাতত বৈভবের উপরই বর্তাবে। সঙ্গে একমাত্র বিদেশি পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি। বৈভব বলছিলেন, ‘‘আমি জানি, চোট-আঘাত এবার ভুগিয়েছে আমাদের। তবে আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য হল, কেকেআরকে যত সম্ভব ম্যাচ জেতানো। যাতে আমরা এবারও ট্রফিটা জিততে পারি। আমরা শেষ বার যখন আইপিএল জিতলাম, পেসার এবং স্পিনার, প্রত্যেকে ভালো পারফর্ম করেছিল। অবদান রেখেছিল। প্রত্যেকে যদি একটা-দু’টো করে ম্যাচ জেতাতে শুরু করে, তাহলে এবারও ট্রফি না জেতার কোনও কারণ নেই আমাদের। আমাদের কোচ ইতিমধ্যে বলেছেন, জার্সিতে তিনটে তারা হয়ে গিয়েছে। এবার চতুর্থ তারা চাই।’’
বুধবারই মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেল কেকেআর। আগামী ২৯ মার্চ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া হর্ষিত রানার পরিবর্ত হিসেবে নভদীপ সাইনির নাম ঘোষণা করা হল। কেকেআর নাইট ক্লাবে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাইনি বলেন, ‘‘গতকাল রাতে আমি প্রথম জানতে পারি, আমাকে দলে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে বুঝে উঠতে পারছিলাম না, ঠিক কী বলব? কোন প্রতিক্রিয়া দেব? আমি ফিরে আসার জন্য প্রবল লড়াই চালাচ্ছিলাম। আস্থা ছিল যে আমি পারব। ঈশ্বরের উপর ভরসা রেখেছিলাম। উনি আমাকে একটা সুযোগ দিলেন।’’ কিন্তু এই সুযোগকে কীভাবে দেখছেন তিনি? ‘‘প্রত্যাবর্তনের সুযোগ বলতে পারেন। আমি বরাবর কড়া পরিশ্রমে বিশ্বাসী। ক্রিকেট শুরুর দিন থেকে সেটাই বিশ্বাস করে এসেছি। আমার জীবনে উত্থান-পতন এসেছে। কিন্তু লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে কখনও চলে যাইনি। তাই এই সুযোগকে আমার পুনরুত্থানের মঞ্চ বলতে পারেন।’’
