কলকাতা নাইট রাইডার্স: ১৮০/১০ (গ্রিন ৮০, রভম্যান ২৭, রাবাদা ২৯/৩, সিরাজ ২৩/২)
গুজরাট টাইটান্স: ১৮১/৫ (শুভমান ৮৬, বাটলার ২৫, বরুণ ৩৪/২, রমণদীপ ৫/১)
৫ উইকেটে জয়ী গুজরাট।
ম্যাচ আসে, ম্যাচ যায়, কিন্তু ফল বদলায় না কলকাতা নাইট রাইডার্সের। ইডেন থেকে আহমেদাবাদ, হারের ধারা যেন থামছেই না। শুভমান গিলের অনবদ্য ইনিংসের সামনে দাঁড়াতেই পারল না নাইটরা। কাটল না শনির দশাও! গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটের লজ্জাজনক পরাজয় মেনে নিতে হল কলকাতাকে। ফলাফলেই স্পষ্ট, অজিঙ্ক রাহানের নেতৃত্বে হারটাই যেন অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে কেকেআরের কাছে।
আর কোনও সংশয়ই রইল না। আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলে সবার শেষ আসনটি যদি কারও প্রাপ্য হয়, সেটা এক এবং একমাত্র কেকেআরের। শুক্রবার দিশাহীন ক্রিকেট খেলে নাইটরা বুঝিয়ে দিলেন অতীতের হতশ্রী হার থেকে শিক্ষাই নেয়নি নাইটরা। বোলিং, ব্যাটিং এবং অধিনায়কত্ব - তিন বিভাগেই আইপিএলের বাকি দলগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। মরশুমের শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা নেই দলের পারফরম্যান্সে। ইতিমধ্যেই চার ম্যাচে হারের মুখ দেখেছিল নাইটরা। শুক্রবার সেই ব্যর্থতার তালিকায় আরও একটি ম্যাচ যোগ হল। গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে লজ্জাজনক পরাজয় উপহার পেল কেকেআর।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অজিঙ্ক রাহানে। যুক্তি ছিল, ব্যাটাররা স্বাধীনভাবে, সাহসী ক্রিকেট খেলুক। সেই উদ্দেশে ফিন অ্যালেনের বদলে টিম সেইফার্টকে খেলায় কেকেআর। কিন্তু যিনি ‘সাহসে’র কথা বলছেন, তিনি যদি প্রথম বলেই আউট হন, তাহলে দলের কী অবস্থা দাঁড়ায়? মহম্মদ সিরাজের বলে প্রথম ওভারেই রাহানে ক্যাচ তুলে আউট। পরের ওভারে ফর্মে থাকা অঙ্গকৃষ রঘুবংশীকে ফেরান কাগিসো রাবাদা। সেইফার্ট শুরুটা খারাপ করেননি। তবে তিনিও ১৯ রানের বেশি করতে পারলেন না।
এরপর যখন সিঁদুরে মেঘের প্রহর গুনছেন নাইটরা, তখনই জ্বলে উঠল অজি তারকার ব্যাট। পাঁচ ইনিংসে ব্যর্থতার পর অবশেষে রানের দেখা পেলেন ২৫ কোটির ক্যামেরন গ্রিন। ধুঁকতে ধুঁকতে, একাধিকবার জীবনদান পেয়ে শেষ পর্যন্ত ৭৯ রান করলেন। এমন একটা দিনে রান পেলেন, যেদিন আর কাউকে খুব একটা সঙ্গ পেলেন না। গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে নাইটদের রান দাঁড়াল ১৮০। তবে এই রানটা যে যথেষ্ট নয়, তা বোঝা গেল।
জবাবে ঝড়ের গতিতে শুরু করল গুজরাট। প্রথম ওভারেই তিনটি ছক্কা খেলেন অনুকূল রায়। যদিও দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট তুললেন নারিন। ১৬ বলে ২২ করে ফিরলেন সাই সুদর্শন। তাতে অবশ্য রানের গতি কমল না। এরই মাঝে জস বাটলারকে ব্যক্তিগত ২৫ রানে ফেরালেন বরুণ চক্রবর্তী। বাটলার ফিরলেও টলানো গেল না গুজরাট অধিনায়ক শুভমানকে। এবারের আইপিএলে শুরুটা ভালো করলেও বড় রান পাচ্ছিলেন না। কেকেআরের বিরুদ্ধে ষোলো আনা যেন পূর্ণ হল গিলের। ৫০ বলে ৮৬ রান করলেন। হাঁকালেন ৮টি চার, ৪টি ছয়। শেষ পর্যন্ত ১৯.৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নিল গুজরাট। লিগ টেবিলে চতুর্থ স্থানে পৌঁছে গেল তারা। আর হ্যাঁ। গ্রিনের ‘আর কবে’ পর্ব মিটল বটে, কিন্তু নাইট রাইডার্সের প্রথম জয়ের অপেক্ষা মিটল না। ৬ ম্যাচের মধ্যে ৫টাতেই হেরে পয়েন্ট টেবিলের সবার নিচে কেকেআর।
