আইপিএল ২০২৬-এ এক অবিশ্বাস্য মুহূর্তের সাক্ষী থাকল মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। মাধ্যাকর্ষণকে ভুল প্রমাণ করে অ্যাথলেটিসিজম দেখিয়ে শরীর ছুড়ে দিয়ে যেভাবে ক্যাচ নিয়েছেন শ্রেয়স আইয়ার, তাতে মুগ্ধ খোদ শচীন তেণ্ডুলকর (Sachin On Shreyas)। পঞ্জাব কিংসের অধিনায়কের ক্যাচকে 'লাইভে দেখা সেরা ক্যাচগুলোর একটি' বলে মন্তব্য করেছেন মাস্টার ব্লাস্টার।
১৮তম ওভারে বল করতে এসেছিলেন মার্কো জানসেন। ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিটি অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরে রাখেন তিনি। সেই বলটিকে তুলে মারেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। বলটি অনায়াসেই ছয় হওয়ার পথে এগোচ্ছিল। লং-অন বাউন্ডারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্রেয়স। অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় হাওয়ায় ভেসে পিছনের দিকে লাফিয়ে বলটি তালুবন্দি করেন। তবে মুহূর্তের মধ্যেই বুঝতে পারেন, শরীরের ভারসাম্য তাঁকে বাউন্ডারির বাইরে নিয়ে যাবে। সেই অবস্থাতেই অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধি দেখিয়ে, মাঝআকাশে ভেসে থাকতে থাকতেই বলটি মাঠের ভেতরে ঠেলে দেন তিনি। কাছেই ছিলেন জেভিয়ার বার্টলেট। তিনি সহজেই ক্যাচটি সম্পূর্ণ করেন। এর ফলে স্কোরবোর্ডে হয়তো নাম ওঠে বার্টলেটের। কিন্তু ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে সেই ক্যাচ চিরকাল জড়িয়ে থাকবে শ্রেয়স আইয়ারের নামেই। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাণ্ডিয়ার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে মুম্বই।
ম্যাচ শেষে সোশাল মিডিয়ায় শ্রেয়সকে প্রশংসায় ভাসান শচীন। তিনি লেখেন, 'শুধু অ্যাথলেটিসিজম নয়, এক্ষেত্রে সচেতনতাও জরুরি ছিল। বলের গতি, উচ্চতা, বাউন্ডারির দূরত্ব - সবকিছু এক মুহূর্তে বিচার করে নিখুঁত লাফটা দিতে হয়েছে ওকে। তারপর শূন্যে থাকতে থাকতে বল ছুড়ে দিতে হয়েছে সতীর্থের দিকে। এত কিছু এক সেকেন্ডের মধ্যে করাটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। শ্রেয়স সব দিকেই নিখুঁত ছিল। আমি যত লাইভ ক্যাচ দেখেছি, এটা তার মধ্যে অন্যতম।'
শ্রেয়সের এই ক্যাচের পর শেষ দিকে বড় রান তুলতে পারেনি মুম্বই। শেষ ৩৯ বলে মাত্র ৫৯ রান তোলে তারা। কুইন্টন ডি'ককের সেঞ্চুরি ও নমন ধীরের হাফসেঞ্চুরি সত্ত্বেও ১৯৩ রানেই থামে ইনিংস। তবে শুধু ফিল্ডিং নয়, ব্যাট হাতেও দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন শ্রেয়স। রান তাড়া করতে নেমে ৩৫ বলে ৬৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি। প্রভসিমরন সিংয়ের সঙ্গে গড়েন ১৩৯ রানের জুটি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই জয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে পঞ্জাব। ৯ পয়েন্ট ও +১.০৬৭ নেট রান রেট নিয়ে এবারের আইপিএলে এখন পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য তারা।
