একটা জয় অনেক কিছু বদলে দিয়ে যেতে পারে। টানা হারের পর কেকেআর ড্রেসিংরুমে যে গুমোট আবহ তৈরি হয়েছিল, রবিবার ইডেনে জেতার পর অনেকটাই কেটেছে। টিমের মধ্যে বিশ্বাস ফিরেছে। অবশ্য শুধু জয় নয়, বরুণ চক্রবর্তীর ফর্মে ফেরা আরও বেশি স্বস্তি দিচ্ছে কেকেআরকে। রিঙ্কু সিং চেনা ছন্দে। ম্যাচ জিতিয়েছেন। রিঙ্কু ধন্যবাদ জানাচ্ছেন ঈশ্বরকে। তাঁর সহজ ক্যাচ না পড়লে কেকেআর ম্যাচটা হয়তো জেতে না।
আপাতত দুটো-তিনটে দিন পুরোপুরি ছুটি। পরের ম্যাচের আগে এক সপ্তাহ সময় রয়েছে। তাই ক্রিকেটারদের ক্রিকেট থেকে কয়েকটা দিন দূরে রাখা হচ্ছে। বুধবার দুপুরে টিম লখনউ চলে যাবে। আগামী রবিবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ম্যাচ। তার আগে অবশ্য একটা ভালো খবর থাকছে। পরের ম্যাচে মাথিশা পাথিরানাকে পাওয়া যেতে পারে। দু’দিন আগেই শহরে চলে এসেছিলেন শ্রীলঙ্কার পেসার। তবে ইডেনে আগের ম্যাচে খেলেননি। সোমবার থেকে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন পাথিরানা। এ দিন ইডেনে ফিজিও, আর ট্রেনারদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ ট্রেনিং করেছেন পাথিরানা। যেহেতু পরের ম্যাচের আগে প্রায় সপ্তাহখানেক সময় থাকছে, কেকেআর শিবিরের আশা, ওই ম্যাচে ১৮ কোটির পেসারকে হয়তো খেলানো যাবে।
অন্যদিকে ম্যাচ শেষে আইপিএল ওয়েবসাইটে দুই নায়ক নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। রিঙ্কু আর অনুকূল রায়। রিঙ্কুকে জিজ্ঞেস করা হয়, ওই শট খেলার পর কী মনে হয়েছিল? রিঙ্কু বলেন, “রামনদীপের সঙ্গে তখন ব্যাট করছিলাম। ও একটা কথাই বলছিল। পার্টনারশিপ দরকার। শেষপর্যন্ত ম্যাচটা নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু একটা সময় এমন পরিস্থিতি হয় যখন বাউন্ডারির দরকার ছিল। ঠিক তখনই ওই শট খেলতে যাই। ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ যে ক্যাচটা মিস হয়। তারপর নিজের সঙ্গে কথা বলি।”
তারপর আর রিঙ্কু কোনও ভুল করেননি। রিঙ্কুর কাজ কিছুটা হলেও সহজ করে দেন অনুকূল। দু’জনের পার্টনারশিপই কেকেআরকে ম্যাচ জেতায়। রিঙ্কুর কথায়, “অনূকূল আর আমি দু’জনে রুমমেট। ক্রিকেট নিয়ে আমাদের মধ্যে প্রচুর কথা হয়। তাই জন্য দু’জনের বোঝাপড়াটাও খুব ভালো। ওই সময় আমাদের ভীষণভাবে একটা পার্টনারশিপ দরকার ছিল। অনুকূল খুব ভালো ইনিংস খেলেছে। ওর জন্য আমি খুব খুশি। বেশ কয়েক বছর ধরে কেকেআর টিমের সঙ্গে রয়েছে। অনুকূল বোলিং করে, সেটা সবাই জানে। কিন্তু ব্যাট হাতে কী করতে পারে, সেটা বুঝিয়ে দিল।”
অনুকূল নিজেও ঠিক করে নেমেছিলেন রিঙ্কুর উপর বাড়তি চাপ পড়তে দেবেন না। বলছিলেন, “আমি শুধু ভাবছিলাম যে রিঙ্কু যদি আটকেও যায়, তাহলে আমাকে চাপটা সরিয়ে দিতে হবে। যাতে ও স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলতে পারে। বাড়তি ঝুঁকি না নিতে হয়।”
