ম্যাচে দু'ইনিংসের ৪০ ওভার মিলিয়ে উঠেছে ৪৬২ রান। ওভার প্রতি সাড়ে এগারোর বেশি। জশপ্রীত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমারের মতো বোলারকেও রেয়াত করেননি প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা। সেখানে তাঁর ইকোনমি রেট মাত্র সাড়ে ছয়। প্রায় অর্ধেক। বলা হচ্ছে, দলের ১৮ রানের জয়ের পিছনে ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার (Krunal Pandya) এমন বোলিংই যেন তফাত গড়ে দিয়েছে।
রবিবাসরীয় ওয়াংখেড়েতে আরসিবি-র তোলা ২৪০-৪ স্কোরের জবাবে ২২২-৫ রানে থেমেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এমন রান উৎসবের মধ্যেও নজর কেড়েছে ক্রুণালের বোলিং। ৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান দেওয়ার পাশাপাশি যিনি তুলে ফিরিয়েছেন সূর্যকুমার যাদবের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে। শুধু তাই নয়, স্পিনার হয়েও বেশ কয়েকবার 'বাউন্সার' দিতে দেখা গিয়েছে ক্রুণালকে। যা সামলাতে সমস্যায় পড়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ব্যাটিং।
নিজের এই অভিনব অস্ত্র সম্পর্কে ক্রুণালের বক্তব্য, "আমি সবসময় নিজের অনুমানকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। ওভারের কোন বলে বাউন্সার দেব, তা আগে থেকে ঠিক করা থাকে না। এমনও হয় যে পরপর দু'টো বাউন্সার দিই, আবার কোনও ওভারে প্রথম আর শেষ বলে। সবটাই হয় আমার অনুমানের ভিত্তিতে। কারণ বাউন্সার করার সময় আমি নিজের সেরাটা দিই। জানি, একজন স্পিনার হয়েও বাউন্সার দেওয়ায় অনেক কথা হয়। তবে আমি জানি কোনটা আমার শক্তি। উচ্চতার জন্য আমি উইকেট থেকে বাড়তি বাউন্স আদায় করতে পারি। আবার স্পিন এবং ফ্লাইটের তারতম্য করেও উইকেট পাই।" সম্প্রতি ক্রুণালের বাউন্সার দেওয়া নিয়ে মস্করা করতে শোনা গিয়েছে সতীর্থ ভুবনেশ্বরকেও।
আইপিএলের (IPL 2026) 'ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার' নিয়মের প্রভাব পড়েছে ক্রুণালের বোলিংয়ে। "আমি কখনোই নতুন কিছু করতে ভয় পাইনি। তাড়াছা ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের জন্য এখন আমাদের কাজ কঠিন হয়ে গিয়েছে। আগে ছয় বা সাত নম্বরে অলরাউন্ডাররা খেলত। ব্যাটিংটা অন্যরকম ছিল। কিন্তু এখন আট নম্বরেও ব্যাটাররা নামছে", বলছিলেন এই তারকা অলরাউন্ডার। "তাছাড়া বৈভব সূর্যবংশী বা মুকুল চৌধুরির মতো তরুণরা প্রথম বল থেকে চালাচ্ছে। বোলার হিসেবে ওদের থেকে একধাপ এগিয়ে থাকাই আমার লক্ষ্য।" তবে ফিঙ্গার স্পিনারদের জন্য পরিস্থিতি যে প্রতিকূল, জানাতে ভোলেননি ক্রুণাল। "ভালো লাগছে যে আমার পরিকল্পনা কাজে লাগছে। আশা করছি, এই ফরম্যাটে এভাবেই ফিঙ্গার স্পিনাররা টিকে থাকবে। কারণ পাটা উইকেট এবং ব্যাটারদের বাড়বাড়ন্তে এখন আমাদের কাজটা কঠিন হয়েছে অনেকটাই।"
