চিপকের একদিকে দাঁড়ানো মহেন্দ্র সিং ধোনিকে দেখতে পেয়েই দৌড়ে গেলেন রাহুল ত্রিপাঠী। ডোয়েন ব্রাভোও তাই। বর্তমানে দু'জনেই কেকেআরে। তবে দীর্ঘদিন ধোনির সঙ্গে সিএসকে জার্সিতে কাটিয়েছেন। সেই সম্পর্কের টানেই পুরনো সতীর্থের 'কুশল-মঙ্গল' জেনে গেলেন দুই নাইট।
আসলে প্রশ্নটাও ধোনির 'কুশল-মঙ্গল' নিয়েইে। আইপিএল শুরুর দিন সাতসকালে বজ্রপাতের মতো খবরটা দিয়েছিল সিএসকে। চোটের জন্য আপাতত দু'সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকবেন 'থালা'। সেই হিসেব অনুযায়ী, কেকেআরে বিরুদ্ধেই প্রত্যাবর্তন হওয়ার কথা তাঁর। কিন্তু আদৌ কি মঙ্গলবার সিএসকে-র জার্সিতে ফিরবেন ধোনি? স্পষ্ট কোনও জবাব পাওয়া যাচ্ছে না। এরমধ্যে সিএসকে-র প্রাক্তনী সুব্রহ্মণ্যম বদ্রীনাথ আবার বলে দিয়েছেন, ফিট হয়ে উঠলেও ধোনিকে খেলানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। "কেকেআরের বিরুদ্ধে ধোনি খেলবে কি না, সেটা লক্ষ টাকার প্রশ্ন। আমি যতদূর জানি, ও ব্যাটিং শুরু করেছে। আর শ্রীধরন শ্রীরাম (সিএসকে বোলিং কোচ) আমাকে বলেছে যে, ম্যানেজমেন্ট ওকে খেলানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। প্রতিদিন ধোনির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" বদ্রীনাথের এহেন বক্তব্যের পাল্টাও কিছু বলা হয়নি সিএসকে থেকে। ফলে আদৌ ধোনি মঙ্গলবার খেলবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবও মেলেনি।
অবশ্য কেকেআরের ভাবনায় এখন ধোনির খেলা নয়, রয়েছে নিজেদের পারফরম্যান্স। এবারের আইপিএলে নাইটরাই একমাত্র দল, যারা এখনও জয়ের দেখা পায়নি। টানা তিনটে হারের পর শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে জয়ের সরণিতে ফিরেছে সিএসকে। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে দুরন্ত সেঞ্চুরিতে অফ ফর্ম কাটিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। সঙ্গে আয়ুষ মাত্রের ধারাবাহিক ব্যাটিং তো আছেই। নাইট শিবির অবশ্য 'ব্যক্তি নয়, দল আসল' মন্ত্রেই বিশ্বাস রাখছে। সোমবার ফিন অ্যালেন যেমন। সঞ্জর ফর্মে ফেরা প্রসঙ্গে শুনিয়ে গেলেন, "সঞ্জুকে আমি বল করব না, তাই ভাবছি না। তবে আইপিএলে সব দলই ভালো। অন্য সব ম্যাচে যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়, সিএসকে-র জন্যও সেভাবে তৈরি হচ্ছি।” শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে অবিশ্বাস্যভাবে এলএসজি-র কাছে হেরেছে কেকেআর। অ্যালেন অবশ্য সেই ম্যাচ থেকেই আত্মবিশ্বাস খুঁজছেন। "শেষ ম্যাচটা একটুর জন্য হাতছাড়া হয়েছে। জিততে পারলে আমাদের পরিস্থিতি ভিন্ন হত। তাই চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে একই মানসিকতা নিয়ে নামব।"
কেকেআরের বোলিং নিয়ে প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। বিশেষত চোটের জন্য একের পর এক পেসারের ছিটকে যাওয়া এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বরুণ চক্রবর্তীর মার খাওয়া। বরুণ চোটের জন্য শেষ দু'ম্যাচ না খেললেও এখন ফিট। তবে প্রথম ম্যাচ ছাড়া ব্যাটাররাও বলার মতো পারফর্ম করতে পারেনি এখনও। বিশেষত ঘরের মাঠে টানা তিন ম্যাচ খেললেও আহামরি কিছু করেননি ক্যামেরন গ্রিন-অজিঙ্ক রাহানেরা। অ্যালেন দাবি করে গেলেন, আরও সময় চাই নাইট ব্যাটারদের। বলছিলেন, "আমাদের ব্যাটাররা সেরা ফর্মে থাকলে রান তোলার গতি ঠিকই থাকে। আমার মনে হয়, কলকাতার পরিবেশের সঙ্গে আমরা এখনও মানিয়ে নিতে পারিনি। এখানে উইকেট আগের মতো পাটা নয় সম্ভবত। বুঝতে হবে এই উইকেটে কত রান করলে সেটা ভালো স্কোর হবে।" চিপকে এবার দু'টো ম্যাচেই রান উৎসব দেখা গিয়েছে। এমন উইকেটে কেকেআর ব্যাটিং কেমন ঝড় তোলে, দেখার।
