আইপিএলে বিহারের ক্রিকেটার বললে প্রথমে কার কথা মনে আসে? বৈভব সুর্যবংশী। তাই তো? এবার তাতে নাম জুড়ে নিন সাকিব হুসেনের। আইপিএল যাঁরা নিয়মিত দেখেন, তাঁরা জানেন বিহারের ২১ বছর বয়সি পেসারকে কলকাতা নাইট রাইডার্স কিনেও বসিয়ে রেখেছিল। সেই সাকিব এবারের সানরাইজার্সের হয়ে আগুনে বোলিং করে নজির গড়লেন। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে তাঁর পরিসংখ্যান ৪-০-২৪-৪। যা আইপিএল অভিষেকে কোনও ভারতীয়র সেরা বোলিং পরিসংখ্যান। অথচ ক্রিকেট মাঠ নয়, ভাগ্য পরিবর্তন না হলে হয়তো সেনার উর্দিতে দেখা যেত সাকিবকে।
রাজস্থানের বিরুদ্ধে প্রথম ওভারে বিহারের তরুণ পেসার ফেরালেন যশস্বী জয়সওয়ালকে। একদিকে সানরাইজার্সের আরেক পেসার প্রফুল হিঞ্জে বৈভবদের ফেরাচ্ছিলেন। অন্যদিকে আগুনে গতিতে কাঁপন ধরিয়ে দেন সাকিব। শেষের দিকে ডোনোভান, জোফ্রা আর্চার ও রবি বিষ্ণোইয়ের উইকেটও তাঁর ঝুলিতে। এর আগে ভারতীয়দের মধ্যে অশ্বনী কুমার অভিষেকে ২৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলেছিলেন। সেই নজির স্পর্শ করলেন সাকিব।
২০২৪-র আইপিএলে ২০ লক্ষ টাকায় তরুণ তুর্কিকে কিনেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু কোনও ম্যাচ খেলায়নি। গতবছর নিলাম থেকে সানরাইজার্স তাঁকে কিনে নেয় ৩০ লক্ষ টাকায়। অথচ ক্রিকেট কখনও সাকিবের প্রথম ভালোবাসা ছিল না। তাঁর লক্ষ্য ছিল সৈনিক হওয়া। সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করা। সেই জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন। ঘণ্টার পর ঘন্টা দৌড়তেন। এদিকে হঠাৎ বাড়িতে আর্থিক অভাব নেমে আসে। কাজ ছাড়তে বাধ্য হন শ্রমিক বাবা। পরিবারকে সাহায্য করার জন্য টেনিস বলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলা শুরু করেন। ম্যাচ প্রতি ৫০০-১০০০ টাকা করে পেতেন।
সেখান থেকে নজর পড়ে প্রয়াত মেন্টর মিন্টু ভাইয়া ও কোচিং রবিন সিংয়ের। দু'জনের ভালোবাসা ও পরামর্শে ক্রিকেট কেরিয়ারে মনোযোগ দেন সাকিব। কিন্তু অর্থ কোথায়? জুতো কেনার টাকা পর্যন্ত ছিল না। ছেঁড়া জুতো পরে খেলতে হত বলে মা গয়না বিক্রি করে জুতো কিনে দেন। জীবন বদলে যায় বিহার ক্রিকেট লিগে খেলার সময়। সেখান থেকে সুযোগ পান বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে পারফরম্যান্সের জেরে অনেকের নজর কাড়েন। সেখান থেকে চেন্নাই সুপার কিংসের নেট বোলার হয়ে কেকেআরে সুযোগ। অবশেষে সানরাইজার্সের জার্সিতে অভিষেক। সীমান্তে দেশসেবা করা হয়নি, কিন্তু ক্রিকেট জার্সিতে পরিবারের মুখোজ্জ্বল করলেন গোপালগঞ্জের সাকিব।
