আরসিবি: ২৫৪-৫ (পাতিদার ৯৩, বিরাট ৪৩)
গুজরাট টাইটান্স: ১৬২ (তেওয়াটিয়া ৬৮, বাটলার ২৯ )
আরসিবি ৯২ রানে জয়ী।
কথায় বলে, উপরওয়ালা যখন দেন, সবটা উজার করে দেন। বিরাট কোহলি এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ক্ষেত্রে কথাটা পুরোপরি খেটে যায়। এক বছর আগেও যে দলটা একটা আইপিএল ট্রফির জন্য চাতক পাখির মতো চেয়েছিল, তারাই আজ দ্বিতীয় ট্রফির দোরগোড়ায়। মঙ্গলবার আইপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে রীতিমতো রাজকীয় ভঙ্গিতে গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে পড়ল ভারতীয় ক্রিকেটের রাজা বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সৌজন্যে-আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদারের অবিশ্বাস্য ইনিংস।
৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩। পাঁচটা বাউন্ডারির সঙ্গে ন’টা ওভার বাউন্ডারি! আইপিএল প্লে-অফে এ হেন তাণ্ডব, স্রেফ অকল্পনীয়! কিন্তু সেই অকল্পনীয় কাজই করে দেখালেন আরসিবি অধিনায়ক এ যাবৎ আইপিএল প্লে অফের সর্বোচ্চ স্কোর তুলে। আজ পর্যন্ত কোনও টিম প্লে অফে ২৫৪ তুলতে পারেনি। যা মঙ্গলবার টাইটান্সের বিরুদ্ধে প্রথম কোয়ালিফায়ারে তুলে ফেলল আরসিবি।
এ দিন টস জিতে আরসিবিকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় টাইটান্স। বিরাট কোহলির সঙ্গে ওপেন করতে নামেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। ১৯ রান করে ভেঙ্কটেশ ফিরে যাওয়ার পর টিমকে টানতে থাকেন বিরাট। দলের ৯৩ রানের মাথায় আউট হয়ে যান প্রাক্তন আরসিবি অধিনায়ক। পাতিদারের ঠিক সেই সময়ই আগমন এবং তাণ্ডবের শুরু। একা করলেন ৩৩ বলে ৯৩। ওই দুর্ধর্ষ ইনিংসে একটাও অ-ক্রিকেটীয় শট ছিল না। সমস্ত শট ক্রিকেট ম্যানুয়াল অনুসরণ করে, পাওয়ার বর্জন করে স্কিলের উপর নির্ভর করে। কভারের উপর দিয়ে রশিদ খান এবং কাগিসো রাবাডাকে মারা সপাট ছয়! যাঁদের একজন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার। আর একজন ক্রিকেট গ্রহের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পেসার।
রজত পাতিদার। ছবি: সোশাল মিডিয়া।
আজ পর্যন্ত আইপিএলের প্লে অফ ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান উঠেছে ২০২৩ সালে। যা তুলেছিল গুজরাত টাইটান্স। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ২৩৩। মহম্মদ সিরাজ। রশিদ খান। কাগিসো রাবাডা। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। কেউ রক্ষা পাননি এ দিন পাতিদার-প্রহারের থেকে। বরং নামজাদা সব বোলারদের দশা দেখলে শিউরে উঠতে হয়। তিন ওভারে ৪৬ রান দিয়ে একটাও উইকেট পাননি সিরাজ। রাবাডা ৪ ওভারে দিয়েছেন ৫৪। উইকেট মাত্র একটা। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ দিয়েছেন চার ওভারে ৫৩ রান। সংগ্রহে সাকুল্যে এক উইকেট। পাতিদার ছাড়াও আরসিবি ব্যাটারদের বাকিরাও টুকটাক রান পেয়েছেন। যেমন ক্রুণাল পাণ্ডিয়া (৪৩)। যেমন বিরাট (৪৩)। যেমন দেবদত্ত পারিক্কল (১৯ বলে ৩০)। কিন্তু পাতিদারের ঝড়ে বিরাটরাও এদিন ম্লান হয়ে গেলেন।
টার্গেট ছিল ২৫৪ রান। শুভমান গিলদের মুশকিল হল আইপিএলে দু'শোর বেশি রান তাড়া করে জেতার নজির তাদের খুব একটা নেই। গুজরাটের দলটা অতিরিক্ত টপঅর্ডার নির্ভর। আর আজ এই বিশাল রান তাড়া করতে গিয়ে সেই টপঅর্ডারই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। মাত্র ৫১ রানের মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফিরলেন পাঁচ ব্যাটার। ফর্মে থাকা সাই সুদর্শন (১৪), শুভমান গিল (২) থেকে শুরু করে বাটলার (২৯) রানের চাপে কেউই দাঁড়াতে পারলেন না। গোটা টপ অর্ডারে বাটলার আর সুদর্শন ছাড়া কেউ দুই অঙ্কের রানও ছুঁতে পারলেন না। শেষদিকে খানিকটা প্রতিরোধ দেখালেন রাহুল তেওয়াটিয়া। তিনি ৬৮ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেন। সেটাও নামমাত্রই। ফলে যা হওয়ার সেটাই হল, গুজরাটের গোটা দল গুঁটিয়ে গেল ১৬২ রানে। আর ৯২ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে ফাইনালে চলে গেলেন কোহলিরা। গিলরা আপাতত অপেক্ষায়- দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতলে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ থাকবে তাঁদের কাছেও। কিন্তু এদিন 'প্রিন্স'-সহ গোটা দলের ব্যাটিং উইকেটের যা পারফরম্যান্স দেখা গেল, তাতে বড় বেশি আশা না করাটাই মঙ্গল।
