রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: ২৫০/৩ (টিম ডেভিড ৭০*, দেবদত্ত ৫০, অংশুল কাম্বোজ ৫২/১)
চেন্নাই সুপার কিংস: ২০৭/১০ (সরফরাজ ৫০, ওভারটন ৩৭, ভুবনেশ্বর ৪১/৩)
আরসিবি ৪৩ রানে জয়ী
আরসিবি'র বিরুদ্ধে হারের পর যে কোনও চেন্নাই-ভক্ত কাতর নয়নে একজনকেই খুঁজবে। তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনি। ব্যাটার নন, উইকেটকিপার নন। নেতা ধোনির অভাব হাড়েহাড়ে বুঝতে পারছে সিএসকে। কোনও বিশ্বমানের বোলার নেই, রান তাড়ার মতো মালমশলা নেই। সবচেয়ে বড় কথা, মাঠে দাঁড়িয়ে দলকে দিশা দেখানোর মতো কেউ নেই। তাই দাক্ষিণাত্য ডার্বি এখন কার্যত একতরফা। আরসিবি'র বিরাট ২৫০ রানের লক্ষ্য যে টপকানো সম্ভব নয়, তা আগেই অনুমান করা গিয়েছিল। চেন্নাই থমকে গেল ২০৭-এ। ৪৩ রানে জিতে আইপিএলের শীর্ষস্থান দখল করে নিলেন বিরাট কোহলিরা। অন্যদিকে হারের হ্যাটট্রিকে লিগ টেবিলের সবার শেষে চেন্নাই।
এদিন চিন্নাস্বামীতে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন চেন্নাই অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। মরশুমের প্রথম জয় পেতে সিএসকে’র একমাত্র কাজ ছিল আরসিবি’কে অল্প রানে আটকে দেওয়া। সেটা আর হল কই? জীবনদান পেয়েও বিরাট কোহলি বড় রান পেলেন না। অংশুল কাম্বোজের বলে দুবের হাতে বন্দি হন বিরাট। তখন তাঁর নামের পাশে ‘মাত্র’ ২৮ রান। কিন্তু ফিল সল্টকে এদিন ফর্মে ফিরিয়ে আনলেন খলিল আহমেদরা। ৩টে চার ও দু’টো ছক্কায় ৩০ বলে ৪৬ রান করে যান। তবে ঝড় ওঠা তখনও বাকি ছিল। দেবদত্ত পাড়িক্কল ঘরোয়া ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য ফর্মে ছিলেন। ২৯ বলের হাফসেঞ্চুরিতে সেই নিদর্শন রেখে গেলেন। অন্যদিকে অধিনায়ক রজত পাতিদার সাহসী ক্রিকেটে ১৯ বলে ৪৮ করে যান। টিম ডেভিড বিশ্বকাপে একেবারেই রানের মধ্যে ছিলেন না। চেন্নাই বোলাররা তাঁকেও বিধ্বংসী মেজাজে ফেরালেন। ২৫ বলে ৭০ রান এল তাঁর ব্যাট থেকে। জেমি ওভারটনের এক ওভারে নিলেন ৩০ রান। একটা বল গিয়ে পড়ল একেবারে চিন্নাস্বামীর ছাদে।
৩ উইকেট হারিয়ে আরসিবি করল ২৫০ রান। এবারের আইপিএলে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর। চেন্নাই দলে সেই মালমশলা নেই যে রানের পাহাড় টপকে অসাধ্যসাধন করে। বিশ্বকাপের ম্যাজিক ব্যাটটা বোধহয় ফাইনালের দিক আহমেদাবাদেই ফেলে এসেছেন সঞ্জু স্যামসন। এদিন আউট হলেন মাত্র ৯ রানে। আইপিএলে এখনও পর্যন্ত রানের দেখা পাননি। আগে বলা হত তিনি জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক নন। এবার কি সেই 'রোগ' আইপিএলে দেখা দিল? নাকি রাজস্থান থেকে নতুন দলে এসে থিতু হতে পারেননি? অন্যদিকে দলের নেতার ব্যাটিংয়েও যে আগুন নেই। রুতুরাজ আউট হলেন মাত্র ৭ রানে। ১০ রানে ২ উইকেট পড়ে গেলে এত বড় রান তাড়া করা অসম্ভব হয়ে যেতে বাধ্য। একটু পরে আউট আয়ুষ মাত্রেও। সরফরাজ খানকেই একমাত্র চেষ্টা করতে দেখা গেল। তবে তাঁর ২৫ বলে ৫০ রানটা তপ্ত বালিতে জল ছেটানোর মতো। ১৪.২০ কোটির কার্তিক শর্মা করলেন মাত্র ৬ রান, বিশ্বকাপের আরেক নায়ক শিবম দুবের সংগ্রহ ১৮। ধুঁকতে থাকা চেন্নাই ব্যাটিংকে তবু কিছুটা টানলেন প্রশান্ত বীর (৪৩) ও জেমি ওভারটন (৩৭)। তাঁদের দাপটেই সিএসকে'র রান ২০০ পেরোল।
গতবার লিগ টেবিলে সবার শেষে ছিল চেন্নাই। এবারও সেই জায়গাটা আগাম কিনে নিল তারা? অন্যদিকে আরসিবি দলটা এককাট্টা। ব্যাটিংয়ে বিরাট না খেললে কেউ না কেউ ঠিক কাজ করে দিচ্ছে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রজত পাতিদার। বোলিংয়ে এদিন শুরুতে জেকব ডাফি ভাঙন ধরালেন। অথচ জশ হ্যাজেলউড ফিরলে সম্ভবত তাঁকে মাঠের বাইরে যেতে হবে। কিংবা স্পিনার ক্রুণাল পাণ্ডিয়া বাউন্সারে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে দিলেন। ভেঙ্কটেশ আইয়ার বাইরে বসে। ভুবনেশ্বর কুমার যখনই আসছেন, উইকেট তুলে নিচ্ছেন। সেখানে চেন্নাই টিমটাকে দেখে পুরো ছন্নছাড়া মনে হচ্ছে। উপায় বলতে একটাই। কবে ধোনি চোট সারিয়ে ফিরে আসেন।
