গত কয়েক দিন ধরে কেকেআর প্র্যাকটিসে একটা জিনিস একইরকম রয়েছে। সবার আগে মাঠে চলে আসছেন রিঙ্কু সিং। তারপর নেট বোলারদের নিয়ে একাকী ব্যাটিং অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সোমবার ইনট্রা স্কোয়াড ম্যাচ খেলল কেকেআর। কিন্তু রিঙ্কুর রুটিনে কোনও বদল হয়নি। সবার আগে মাঠে এলেন। তারপর একাই নেটে গেলেন। এদিন অবশ্য বিশেষ একটা মহড়া সারলেন ভারতীয় ক্রিকেটার। শর্ট বোলিং খেলার মহড়া।
উইকেটের সামনের দিকে পাথরের একটা স্ল্যাব রাখলেন। তারপর বোলারদের কাছে নির্দেশ গেল, টানা শর্ট বোলিং করে যাও। রিঙ্কু এক নাগাড়ে কাট-পুল মেরে গেলেন। অবশ্য শুধু কেকেআর অনুশীলনে নয়, বিশ্বকাপের সময় থেকেই এই বিশেষ ট্রেনিং করছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এখন পর্যায়ে চলে গিয়েছে, যেখানে আড়াইশো রানও আর নিরাপদ নয়। বোলারদের রান আটকানোর বড় ভরসা-ইয়র্কার, স্লোয়ার আর শর্ট বোলিং। রিঙ্কু হয়তো ভালো করে জানেন, তাঁর বিরুদ্ধে শর্ট বোলিংয়ের স্ট্র্যাটেজি নিতে পারে টিমগুলো। তাই আইপিএল শুরুর আগে শর্ট বোলিং খেলার বাড়তি ট্রেনিং করে যাচ্ছেন।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে আইপিএল অভিযানের আগে হাতে দিন চারেক সময় থাকছে। টিম বুধবার দুপুরেই মুম্বই উড়ে যাবে। তবে তার আগে অজিঙ্ক রাহানে কিংবা ক্যামেরন গ্রিনরা যেভাবে ব্যাটিং করে গেলেন, সেটা স্বস্তি দেবে কেকেআর ম্যানেজমেন্টকে। নাইট সিইও ভেঙ্কি মাইসোর এদিন মাঠে ছিলেন। এয়ারপোর্ট থেকে প্রথমে হোটেল। তারপর সোজা মাঠে চলে আসেন কেকেআর সিইও। রাহানেদের ব্যাটিং-ফর্ম তাঁকেও তৃপ্ত করছে। এদিন রাহানে আর অ্যালেন ওপেন করলেন। পাওয়ার প্লে'তে আশির কাছাকাছি রান উঠল। রাহানে হাফসেঞ্চুরির পর উঠে গেলেন। গ্রিনও হাফসেঞ্চুরি করলেন। অ্যালেনও মারমুখী একটা ইনিংস খেলে গেলেন।এমনিতে ব্যাটিং নিয়ে খুব একটা চিন্তা থাকারও কথা নয় কেকেআরের। যা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ফিন অ্যালেনের সঙ্গে ওপেন করতে পারেন অধিনায়ক রাহানে। চার বিদেশি হতে পারে এরকম- অ্যালেন, গ্রিন, রভম্যান পাওয়েল আর সুনীল নারিন।
তবে নাইটদের আসল চিন্তা হল পেস অ্যাটাক। যা কার্যত মিনি হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। হর্ষিত রানা আর আকাশ দীপ ছিটকে গিয়েছেন। মাথিশা পাথিরানা শুরুর দিকে নেই। তার উপর উমরান মালিকরা যেভাবে প্রস্তুতি ম্যাচেই রান দিলেন, তাতে চিন্তা আরও বাড়ার কথা। আকাশ দীপের পরিবর্ত হিসাবে বিদর্ভের পেসার সৌরভ দুবেকে নিয়েছে কেকেআর। যিনি এদিন প্রস্তুতি ম্যাচ খেললেন। আর অ্যালেনকে আউটও করলেন। আঠাশ বছরের এই পেসারকে নেওয়ার কারণ হিসাবে শোনা গেল, গত বছর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের নেটে নাকি দারুণ বোলিং করেছিলেন তিনি। সৌরভের বোলিংয়ের প্রশংসা করেছিল মুম্বই টিম ম্যানেজমেন্ট। তাছাড়া এর আগে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ টিমেও ছিলেন সৌরভ।
