পোলা তো নয়, যেন আগুনের গোলা! 'একরত্তি' বৈভবকে দেখে এ কথাই মনে হয়। বয়স মাত্র ১৫। যে বয়সে অধিকাংশ কিশোর অভিভাবকের স্নেহ-ছায়ায় বড় হয়ে ওঠে, ঠিক সেই বয়সেই নিজের প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাসে গোটা বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে। গত ম্যাচে সেঞ্চুরি ফেলে এসেছিল। গোটা মাঠ দেখছিল 'বেবি বসে'র কান্না। এবারও যেন তার পুনরাবৃত্তি। সেঞ্চুরিটা মুলানপুরে সেই ফেলেই এল বাঁহাতি ওপেনার। তবে সেঞ্চুরি না করতে পারলেও তার নজির গড়া ৯৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস সঞ্জীবনী জোগাল রাজস্থান রয়্যালসকে। গুজরাট টাইটান্সের সামনে ২১৫ রানের লক্ষ্য রাখল গোলাপি বাহিনী। ।
চলতি মরশুমে ব্যাট হাতে একের পর এক নজির গড়েই চলেছেন বৈভব। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবার এক আসরে পাওয়ার প্লে-তে ৫০০ রান করার অনন্য কৃতিত্ব গড়েছে সে। এক্ষেত্রে বৈভব ছাপিয়ে গিয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারকে, যিনি ২০১৬ সালের আইপিএলের পাওয়ার প্লেতে ৪৬৭ রান করেছিলেন। তালিকায় রয়েছেন ট্র্যাভিস হেড, সাই সুদর্শন এবং অ্যাডাম গিলক্রিস্টও।
এর আগে এলিমিনেটরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ২৯ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে শিরোনামে উঠে এসেছিল সূর্যবংশী। সেই ম্যাচে শতরানের রেকর্ড ছুঁতে মাত্র তিন রান দূরে থেমে গিয়েছিল বৈভব। এদিন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পেলেও ইতিহাস লিখেছে সে। আইপিএলে দ্রুততম ১০০০ রান করার নজিরও গড়ে এই কিশোর। মাত্র ৪৪০ বলেই এই মাইলফলকে পৌঁছে গিয়েছে সে। তালিকায় দ্বিতীয় আন্দ্রে রাসেল। ৫৪৫ বলে হাজারের মাইলফ্লক ছুঁয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান দানব। তালিকায় এরপর রয়েছেন টিম ডেভিড, ট্র্যাভিস হেড, ফিল সল্ট, হাইনরিখ ক্লাসেন এবং বীরেন্দ্র শেহওয়াগ।
এদিন ৩১ বলে হাফসেঞ্চুরি করে বৈভব। যা আইপিএলে তার সবচেয়ে মন্থর পঞ্চাশ। আগের ম্যাচে ২৯ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেও, এ দিন দলের স্বার্থে তাঁকে অনেক বেশি ধীরস্থির হয়ে ব্যাট করতে হয়। অর্ধশতরান আসে ১৩তম ওভারে। এর মধ্যেই ১১তম ওভারে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের বলে সাই সুদর্শন তার একটি সহজ ক্যাচ ফেলেন। তবে ৫০ পূর্ণ করার পরই গিয়ার বদলে আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট করতে শুরু করে বৈভব।
হাফসেঞ্চুরির পর মাঠের চারদিকে একাধিক দৃষ্টিনন্দন শট খেলতে দেখা যায় তাকে। এক সময় মনে হচ্ছিল সেঞ্চুরি সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু কাগিসো রাবাডার শর্ট বলে থার্ডম্যান অঞ্চলে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামতে হয় তাঁকে। ১৫ বছরের এই ব্যাটারের ৪৭ বলে ৯৬ রানের ইনিংসকে সম্মান জানাতে গোটা মাঠ দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়। জাডেজার সঙ্গে তার ১২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি রাজস্থানকে লড়াকু স্কোরে পৌঁছে দেয়। জাড্ডু অপরাজিত থাকেন ৩৫ বলে ৪৫ রানে। শেষদিকে ডোনোভান ফেরেরা রশিদ খানকে শেষ ওভারে চারটি ছক্কা মেরে দলকে ২০০ রানের গণ্ডি পার করান।
