এবার আর ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে কোনওরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটতে নারাজ ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant)। লখনউ সুপার জায়ান্টসের অধিনায়ক ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের শুরু থেকেই তিন নম্বরে ব্যাট করার পরিকল্পনা করেছেন। গত মরশুমে রেকর্ড পরিমাণ অর্থে লখনউয়ে এসেছিলেন ঋষভ। প্রায় ২৭ কোটি টাকায় তাঁকে কিনেছিল লখনউ। একইসঙ্গে তাঁকে অধিনায়কও করা হয়েছিল। কিন্তু সেভাবে পারফর্মই করতে পারেননি ঋষভ। গোটা টুর্নামেন্টে একটি মাত্র সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। শেষদিকে লখনউ অধিনায়ক তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন। সেই ব্যাটিং অর্ডারই এবার ধরে রাখতে চান।
এবারের আইপিএল (IPL 2026) ঋষভের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে ভারতীয় টেস্ট দলে জায়গা পাকা রয়েছে তাঁর। বাকি দুই ফরম্যাটে তাঁর জায়গা হাতছাড়া হয়েছে। সঞ্জু স্যামসন এবং ঈশান কিষানের উত্থানের কারণে ভারতের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ঋষভের জায়গা বর্তমানে নেই। ওয়ানডে-তে ব্যাক আপ কিপার হিসাবে তিনি সুযোগ পাচ্ছেন। আসন্ন আইপিএল তাই ঋষভের কাছে অগ্নিপরীক্ষার মতো। সাদা বলের ফরম্যাটে নিজের জায়গা ফিরে পেতে হলে তাঁকে সফল হতেই হবে। তবে ঋষভ যদি তিন নম্বরে নামেন, তাহলে তাদের অন্যতম সেরা ব্যাটার নিকোলাস পুরানকে চার অথবা পাঁচে নেমে যেতে হবে।
লখনউ শিবির একটি সূত্রে জানাচ্ছে, ‘‘টিম ম্যানেজমেন্ট এবং ঋষভ একটা বিষয়ে সহমত হয়েছে যে, লখনউ অধিনায়কের জায়গা তিনেই। শুরুতে এডেন মার্করাম ও মিচেল মার্শ খেলবেন। চারে হয়তো পুরানকে দেখা যাবে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন হতে পারে।’’ গত মরশুমে ঋষভ ১৩৩.১৭ স্ট্রাইক রেটে মোট রান করেছিলেন ২৬৯। যা মোটেই ঋষভ-সুলভ ছিল না। লখনউয়ের বোলিং বিভাগও গতবছর ভুগিয়েছিল। ময়ঙ্ক যাদব ও মহসিন খানের মতো পেসাররা চোটের জন্য খেলতে পারেননি। সূত্রটি জানাচ্ছে, ‘‘ব্যাটিং মোটামুটি দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বোলিং বিভাগ আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো। ময়ঙ্ক ফিট। তবে ওকে আরও বেশি বল করতে হবে। আমাদের আশা, ময়ঙ্ক অবশ্যই টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা দেবে।’’
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক ফাফ ডু’প্লেসি মনে করেছেন, আসন্ন আইপিএলে সবথেকে বেশি চাপে থাকবেন ঋষভ। তিনি বলেছেন, ‘‘আমার তো মনে হয়, এবারের আইপিএলে সবথেকে চাপে থাকা ক্রিকেটারের নাম c কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা প্রভূত অর্থ পেলেও চাপে পড়ে না। নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারে। আবার কেউ কেউ পারে না। আমার ধারণা, গত মরশুমে ঋষভের ক্ষেত্রে এই ঘটনাটাই ঘটেছিল। ওর গত আইপিএল মোটেই ভালো যায়নি। দলও ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং, এই মরশুমে ও শুরু থেকেই চাপে থাকবে। প্রত্যাশাও রয়েছে প্রচুর। অধিনায়ক হিসাবে ওর প্রথম কাজ হবে রানে ফেরা। যদি আপনি অধিনায়ক হিসাবে রান করতে পারেন, তাহলে চাপ এমনিতেই কমে যায়। এরপরে আসে দলগত পারফরম্যান্স। যা গত মরশুমে লখনউ করতে পারেনি। দু’টি ক্ষেত্রেই ওরা ব্যর্থ হয়েছিল।’’
