আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবার ভোলবদল হতে চলেছে বাংলার ক্রীড়া জগতের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে সঙ্গী করে কলকাতায় পথ চলা শুরু করল এক অভিনব মাল্টি-স্পোর্টস ট্রেনিং ইকোসিস্টেম। গত শনিবার শহরের ঐতিহ্যবাহী ক্যালকাটা সাউথ ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই নয়া উদ্যোগের কথা জানাল আমুজি স্পোর্টস টেক ইকোসিস্টেম। জোকাতে গড়ে ওঠা এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মূলত জোর দেওয়া হচ্ছে টেনিস, পিকলবল ও মোটরস্পোর্টসের মতো খেলাগুলির ওপর।
সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই নয়া উদ্যোগের কথা জানাল আমুজি স্পোর্টস টেক ইকোসিস্টেম।
রাজ্যের বুকে এই প্রথম এমন কোনও পরিকাঠামো তৈরি হল, যেখানে খেলাধুলার সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। আমুজি স্পোর্টস কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের লক্ষ্য হল এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে একদম নতুন খেলোয়াড় থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ পেশাদাররা— সকলেই এক ছাদের তলায় উন্নত মানের প্রশিক্ষণ পাবেন। সচরাচর দেখা যায়, নির্দিষ্ট একটি খেলার জন্য আলাদা কেন্দ্র থাকে। তবে জোকায় তৈরি হওয়া এই কেন্দ্রটি সেই দিক থেকে অনেকটাই আলাদা এবং আধুনিক।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত মোটরস্পোর্টস ব্যক্তিত্ব উদয় গঙ্গোপাধ্যায়। আক্ষেপের সুরে তিনি জানান, আমাদের দেশে মোটরস্পোর্টস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আজও বেশ কম। অনেকেই একে ঠিক খেলা হিসেবে গণ্য করেন না। তবে আমুজি স্পোর্টসের এই উদ্যোগ আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে মোটরস্পোর্টসের ছবিটা বদলে দিতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের পারফরম্যান্সকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার জন্য এআই প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা নেবে।
রাজ্যের বুকে এই প্রথম এমন কোনও পরিকাঠামো তৈরি হল।
অন্যদিকে, বর্তমানে যুব প্রজন্মের মধ্যে পিকলবল নিয়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে মুখ খোলেন আদিত্য খান্না। তাঁর মতে, আগামী দিনে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মতোই জনপ্রিয় হয়ে উঠবে পিকলবল। সেই কথা মাথায় রেখেই জোকার এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে বাংলার প্রতিভারা এই ধরনের নতুন খেলাগুলিতেও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে।
সংস্থার ডিরেক্টর রাজীব ঘোষ এক ধাপ এগিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা শোনালেন। তিনি জানান, শুধু প্রশিক্ষণ নয়, খেলাধুলা সম্প্রচারের জন্য তাঁরা ভারতের প্রথম এক্সক্লুসিভ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং টিভি চ্যানেল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে, প্রযুক্তির হাত ধরে বাংলার মাঠের লড়াই এবার এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর অপেক্ষায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে খেলোয়াড়দের ভুলভ্রান্তি শুধরে নেওয়া এবং নিখুঁত কৌশলে পারদর্শী করে তোলাই এখন এই সংস্থার প্রধান লক্ষ্য।
