ইডেনে শেষ ওভারের উত্তেজনা স্তিমিত হতেই ক্যামেরায় ধরা পড়ল এক অন্য ছবি। মরশুমের প্রথম জয়ে তখন উচ্ছ্বসিত কলকাতা নাইট রাইডার্স শিবির। আর ঠিক সেই সময়ই বাউন্ডারি লাইনের ধারে একা বসে চোখ মুছছে বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi)। অল্পের জন্য হারের যন্ত্রণা যেন নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিল কিশোর ওপেনার।
কেকেআরের ইনিংসের ১৬তম ওভার পর্যন্ত বাউন্ডারির ধারে বসে হাসিখুশিই ছিলেন বৈভব। তখন মনে হচ্ছিল, আরেকটি জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রাজস্থান। কিন্তু শেষ চার ওভারে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। রিঙ্কু সিং ও অনুকূল রায়ের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় কেকেআর। মরশুমের প্রথম জয় নিশ্চিত করে। অপ্রত্যাশিত এই পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে পারেনি মাত্র ১৫ বছরের বৈভব। ম্যাচ শেষ হতেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি সে। বাউন্ডারি লাইনে বসেই কেঁদে ফেলে তরুণ বিস্ময় প্রতিভা।
খেলা শেষে বৈভবের কান্নার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, টুপিতে মুখ ঢেকে রয়েছে সে। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল, কাঁদছে বৈভব। সেই মুহূর্তে রাজস্থানের কোনও সতীর্থ এগিয়ে না এলেও, কেকেআরের ক্রিকেটার দক্ষ কামরা তার পাশে এসে বসেন। বৈভবকে সান্ত্বনাও দেন।
এই ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল। অনেকেই বলছেন, এত কম বয়সেই বৈভবের জেতার তীব্র ইচ্ছা সত্যিই নজরকাড়া। আউট হওয়ার পর তার মুখভঙ্গি থেকেই বোঝা যায়, কতটা হতাশ হয় সে। সব সময় দলের জন্য বড় রান করার তাগিদ থাকে বৈভবের মধ্যে। রবিবার ভরদুপুরে ১৫ বছর বয়সি ‘বাচ্চা’র জন্য অনেকেই ইডেনমুখো হয়েছিলেন। ক্রিকেটের কাহিনি নতুন করে লিখছে বৈভব। রাজস্থান রয়্যালস টসে জেতায় বৈভব-যশস্বী জয়সওয়ালকেই প্রথমে ব্যাট করতে দেখে ইডেন। ডিজে বলছেন, ‘উইকেট’ চাই। কিন্তু নাইট রাইডার্সের জার্সি-টুপি পরা দর্শকরাও চাইছেন বৈভবের ব্যাটে ছক্কা দেখতে। অন্যদিনের মতো এদিনও সে হতাশ করেনি। তবে ঠিক বৈভবোচিত ইনিংস নয়। ২৮ বলে ৪৬ রান করল ঠিকই। তার ব্যাট থেকে এল ৬টা চার ২ দু’টো চার। স্ট্রাইক রেট ১৬৪.২৯। বহু ক্রিকেটারের স্বপ্ন, কিন্তু বৈভবের জন্য বড্ড ‘কম’। পরিসংখ্যান বলছে, এবারের আইপিএলে এটাই বৈভবের সবচেয়ে ধীরগতির ইনিংস।
তবে নিজের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের জয়ের গুরুত্বও তার কাছে সমান, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। উপরন্তু, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে পরিবর্ত হওয়ায় ফিল্ডিং করার সময় মাঠে থাকতে না পারায় তার হতাশা আরও বেড়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে এই মরশুমে ইতিমধ্যেই ২৪৬ রান করে ফেলেছে সে, তাও আবার অবিশ্বাস্য স্ট্রাইক রেটে। সিনিয়রদের ছাপিয়ে যাওয়ার সেই গল্প এখন ড্রেসিংরুম থেকে গ্যালারি – সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। ললিত মোদির মতে, আগামী দিনে ভারতীয় ক্রিকেটের মুখ বৈভব। সেই বৈভবের দলকে ৪ উইকেটে হারিয়ে এবারের আইপিএলে প্রথম জয়ের পেয়েছে নাইটরা। তাতে মনখারাপ হয়েছে বাঁহাতি ব্যাটারের। এক নেটিজেন লিখছেন, '১৫ বছর বয়সে এমন দায়িত্ব! ভবিষ্যতের সুপারস্টার তৈরি হচ্ছে।' আরেকজনের কথায়, 'আজ হেরেছে। কিন্তু এই ছেলেটাই একদিন ম্যাচ জেতাবে। মার্ক মাই ওয়ার্ডস।' কেউ আবার কেকেআর ক্রিকেটারের প্রশংসা করে লেখেন, 'নাইট ক্রিকেটারের প্রতি শ্রদ্ধা। এই স্পোর্টসম্যানশিপই ক্রিকেটকে আলাদা করে।' ইডেনের এই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দিল, স্কোরবোর্ডের বাইরে থেকেও ক্রিকেট অনেক বড়।
