প্রথম বলে বুমরাহকে ছক্কা হাঁকানোর পর সকলের মুখে মুখে ফিরছে বৈভব সূর্যবংশীর কথা। ক্রিকেটের সমস্ত ফরম্যাটে অন্যতম সেরা বোলার জশপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)। দু’জনের দ্বৈরথ দেখার জন্য মুখিয়ে ছিল ক্রিকেট দুনিয়া। সেখানে বুমরাহর প্রথম বলেই বিরাট ছক্কা হাঁকায় বৈভব। অনেকেই বলছেন, অর্জুন যেমন জলের প্রতিকৃতি দেখে ঘূর্ণায়মান ধাতব মাছের চোখ বিদ্ধ করেছিলেন, তেমনই গুয়াহাটির বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বুমরাহর বলের দিকে নজর রেখে জোড়া ছক্কা হাঁকিয়েছে বৈভব। এরপর কী বলছে ১৫ বছরের বিস্ময় প্রতিভা?
ম্যাচ শেষে বৈভবের (Vaibhav Sooryavanshi) কথায়, "খুব একটা অনুভূতি হয়নি ছক্কা হাঁকানোর পর। আমি বোলারের থেকে বলের উপরই নজর রাখতে চেয়েছি। তবে স্বীকার করছি, বুমরাহর মতো বড় বোলারের সামনে একটু নার্ভাস লাগছিল। তবুও নিজের খেলায় ভরসা রেখেছি। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী শট খেলার চেষ্টা করেছি।" মঙ্গলবার গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে রাজস্থান বনাম মুম্বই ম্যাচ হয়েছিল ১১ ওভার করে। সেখানে প্রথমে ব্যাট করে রাজস্থান। বুমরাহ এলেন দ্বিতীয় ওভারে। সামনে বৈভব। বুমরাহর প্রথম বলটাই ছিল ইয়র্কর দেওয়ার চেষ্টা। সেই চেষ্টায় সফল হননি বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার। উলটে ফুল লেংথের বল হয়ে যায়, যা অনায়াসে মাঠের বাইরে ফেলে দেয় বৈভব। পরে আরও একটি ছয় মারে সে।
শেষ পর্যন্ত ১৪ বলে ৩৯ রান করে শার্দূল ঠাকুরের বলে আউট হয়। ততক্ষণে হাঁকিয়েছে ৫টি ছয় ও একটি চার। ম্যাচের আগে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিল বৈভব। জানা যায়, তার সামনে সাপোর্ট স্টাফ জোরে বল ছুড়ে দিচ্ছিল। সেই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “ম্যাচের আগের দিন এই ধরনের অনুশীলন খুব কাজে দিয়েছে। কাছ থেকে জোরে বল ছুড়ে দেওয়া হচ্ছিল আমার দিকে। এই ধরনের অনুশীলন করলে ম্যাচে সময় বেশি পাওয়া যায়। আগের ম্যাচের কিছু ভুল শুধরাতে আগেভাগেই অনুশীলনে নেমেছিলাম। সেটার ফল পেয়েছি।”
তবে নিজের ইনিংস নিয়ে খানিক আক্ষেপও ঝরে পড়ে তাঁর কথায়। “ভালো শট খেলেও বারবার আউট হচ্ছি। আজ যদি শেষ পর্যন্ত থাকতে পারতাম, দল আরও বড় স্কোর করতে পারত।” উল্লেখ্য, রাজস্থান রয়্যালসের পরের ম্যাচ শুক্রবার, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে।
