আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতিতে নাকি মধ্যস্থতা করেছিল পাকিস্তান। হাবভাবটা এমন যেন গোটা বিশ্বের শান্তিস্থাপনের মহান দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে তারা। এরপর কৃতিত্ব নিতে মরিয়া পাকিস্তান। সেই কারণেই পিএসএলে (PSL) পায়রা উড়িয়ে শুরু হল হায়দরাবাদ কিংসমেন ও পেশোয়ার জালমির ম্যাচ। ম্যাচের আগে দুই অধিনায়ক বারর আজম এবং মার্নাস লাবুশানে পায়রা ওড়ালেন।
দুই অধিনায়কের সঙ্গে ছিলেন পিএসএল চেয়ারম্যান সলমন নাসির এবং পাকিস্তানের প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটার উরুজ মুমতাজ। মুমতাজ বলেন, "আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজের ভূমিকা রাখতে পেরে গর্ববোধ করছে পাকিস্তান। তাই দুই দলের অধিনায়ক ও পিএসএল সিইও-র সঙ্গে আমরা একটি সাদা পায়রা উড়িয়ে গোটা বিশ্বের কাছে শান্তির বার্তা হিসাবে পাঠানো হল।"
ইরান ও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার পর আগামী ১৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে পাকিস্তান সুপার লিগে কোনও দর্শকের প্রবেশাধিকার ছিল না। ম্যাচের ভেন্যুও বদলানো হয়। ছ’টি শহরের বদলে পাক লিগের ম্যাচ হচ্ছে মাত্র দু’টি শহরে। এই পুরো ঘটনার সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতির যোগসূত্র টানেন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের মালিক আলি নকভি। তাঁর বক্তব্য, গোটা বিশ্বের স্বার্থের জন্যই পাকিস্তানের দর্শকদের একটু কষ্ট করতে হচ্ছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক মহলে বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসাবে উঠে আসে ইসলামাবাদের উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নাকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দু'সপ্তাহ সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানান। শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য সংঘাতের মুখ থেকে সরে এসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। খুলে যায় কূটনৈতিক আলোচনার নতুন দরজা। এই পরিস্থিতিতেই পায়রা উড়িয়ে শুরু হল পিএসএল ম্যাচ। এই ঘটনায় সোশাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। কেউ প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ প্রশ্নও তুলেছেন। এক ইউজার লেখেন, 'পায়রা উড়িয়ে কি সত্যিই শান্তি আসে? নাকি এটা শুধু দেখানোর জন্য?' উল্লেখ্য, এই রাজনৈতিক আবহের মধ্যেই মাঠে জমে ওঠে রুদ্ধশ্বাস লড়াই। শেষ বলের উত্তেজনায় ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয় পেশোয়ার জালমি।
