ওয়াংখেড়েতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স ম্যাচ তখন সবে শেষ হয়েছে। নিজেদের ডাগআউটের সামনে থেকে হঠাৎ মাঠের অন্য প্রান্তে রওনা হলেন কার্তিক ত্যাগী। সঙ্গে সৌরভ দুবে। দ্রুত লক্ষ্যে পৌঁছে ইতস্তত করে ডাকলেন সামনে দাঁড়ানো মানুষটাকে। তারপর কিছুক্ষণ বাধ্য ছাত্রের মতো তাঁর ক্লাস করলেন কেকেআরের দুই তরুণ পেসার। আসলে জশপ্রীত বুমরাহর মতো বোলারকে হাতের কাছে তো রোজ রোজ পাওয়া যায় না। আর যখন পাওয়া গিয়েছে, তখন সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি কার্তিক-সৌরভ। সদ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ী বোলারের থেকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিলেন দু'জনে।
তাঁদের কী বললেন বুমরাহ? "অফস্পিন, লেগস্পিন, সিম, আউটসুইং-যাই হোক না কেন বলটা ভালোভাবে করতে হবে। নিজের বোলিং নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। নিজে ভাবতে হবে যে আমি ভালো বল করেছি আর প্রতিপক্ষ আমাকে মারতে পারবে না", কার্তিকদের বার্তা দিয়েছেন তিনি। তারকা পেসারের কথা বেশ মন দিয়েই শুনছিলেন তাঁরা। সঙ্গে বুমরাহ জুড়েছেন, "যদি আমাকে একটা বল করতে হয়, নিজের সেরাটা দিয়ে করব। আমি শুধু গায়ের জোরে বল করার কথা বলছি না। মানসিকতার কথা বলছি। যে বলটাই করছিস, সেটায় নিজের একশো শতাংশ দিতে হবে।"
রবিবাসরীয় ওয়াংখেড়েতে দু'ইনিংস মিলিয়ে মোট উঠেছে ৪৪৪ রান। সেখানে নিজের চার ওভারে মাত্র ৩৫ রান দিয়েছেন বুমরাহ। দু'দল মিলিয়ে বল করা এক ডজন বোলারের মধ্যে তাঁর ইকোনমি রেটই সবথেকে ভালো। অবশ্য খারাপ বল করেননি কার্তিকও। চার ওভারে ৪৩ রান দিয়ে একটা উইকেট পেয়েছেন তিনি। নাইট পেসারদের মধ্যে সেটাই সেরা বোলিং। তবে বর্তমান সময়ে টি-টোয়েন্টিতে যেভাবে ব্যাটাররা একতরফা দাপট দেখাচ্ছে, সেই প্রসঙ্গ মাথায় রেখে কার্তিকদের পরামর্শ দিয়েছেন বুমরাহ।
তিনি বলছিলেন, "বলের এক্সিকিউশন এদিক-ওদিক হতেই পারে। কিন্তু সেটা নিয়ে ভাবলে হবে না। এখন যেভাবে সবাই ব্যাটিং করে, শুধু রান বাঁচানোর ভাবনা থাকলে হবে না। সেক্ষেত্রে ৪০ রানের বদলে ৭০ রানও দিয়ে দিতে পারে একজন বোলার। এমন ভাবনার কোনও জায়গা নেই। একটা বলে মার খেলে পরের বলটা ভালোভাবে করতে হবে, নিজের সবটা দিয়ে। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ঠিক রাখতে হবে। লক্ষ্য থাকবে একটাই, প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে আউট করা।" বুমরাহর পরামর্শ কার্তিক-সৌরভের কতটা কাজে লাগে, এখন সেটাই দেখার।
