সকালেই দলবদলের বাজারে বড় চমক দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। জাতীয় দলে খেলা অভিজ্ঞ অ্যাটাকিং মিডিও রেনিয়ের ফার্নান্ডেজকে সই করায় লাল-হলুদ শিবির। এবার দুপুর গড়াতেই জানা গেল, বাগানে ফুল ফোটাতে আসছেন লি হ্যারি এরউইন। মোহনবাগানের (Mohun Bagan) আক্রমণভাগের শক্তি বাড়াতে স্কটিশ স্ট্রাইকার সোমবারই রাতেই চলে আসছেন শহরে। মঙ্গলবার থেকেই অনুশীলনে নেমে পড়বেন তিনি।
৩২ বছর বয়সি অভিজ্ঞ লি এরউইনের সঙ্গে সবুজ-মেরুনের চুক্তি এক বছরের। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার এরউইন মূলত বক্স স্ট্রাইকার। গোলের মুখ খুলতে সিদ্ধহস্ত। গোল করায় পারদর্শী। বিপক্ষের রক্ষণকে শক্তি এবং স্কিলের সাহায্যে ছত্রভঙ্গ দিতে দক্ষ। উচ্চতা বেশি হওয়ায় সেট পিসে যে কোনও মুহূর্ত গোল করার ক্ষমতা রাখেন। জর্ডনের ক্লাব আল ফয়সলিতে খেলেছেন গতবছর। স্কটিশ জাতীয় যুব দলের প্রাক্তনী এরউইনের ক্লাব ফুটবলে খেলার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে। সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে ছন্দে নেই জেমি ম্যাকলারেন। অনেকেই আশাবাদী, এরউইন আসায় অজি তারকার 'ব্যর্থতা' অনেকটাই ঢেকে যাবে। এখন দেখার, সমর্থকদের আস্থার মর্যাদা কতটা রাখতে পারেন স্কটিশ ফুটবলার।
জর্ডনের ক্লাব আল ফয়সলিতে খেলার আগে স্কটিশ লিগ ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বহু ক্লাবে খেলেছেন। এশিয়ার নামী ক্লাবেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে এরইউনের। মাদারওয়েল, লিডস ইউনাইটেড, বারি এফ সি, ট্যাক্টর এফসি-র মতো ক্লাবে চুটিয়ে খেলেছেন। এরউইন দলে যোগ দেওয়ায় পানোসের দলের শক্তি অনেকটাই বাড়ল। চুক্তিতে সই করার পর এরউইন বলেন, "ভারতে প্রথম খেলতে আসছি। এখানকার বেশ কয়েকটি আইএসএল ক্লাবের প্রস্তাব ছিল আমার কাছে। কিন্তু মোহনবাগান যেহেতু ভারতের সেরা ক্লাব, তাই ওদের প্রস্তাবেই সম্মতি জানিয়ে ভারতে খেলতে আসছি।"
তিনি আরও বলেন, "এখানে খেলে যাওয়া আমার স্কটিশ ফুটবলার বন্ধুদের মুখে শুনেছি মোহনবাগানের পেশাদারিত্ব বা দর্শন বিশ্ব ফুটবলের যে কোনও ক্লাবের সঙ্গে টেক্কা দিতে পারে। তাছাড়া সাফল্য ও ঐতিহ্যের বিচারে এই ক্লাবের ধারেকাছে আর কেউ নেই। এই ক্লাবের সদস্য-সমর্থকদের ক্লাবের প্রতি আবেগ, সমর্থন ও ভালোবাসাও আমার সবুজ-মেরুন জার্সি পরার অন্যতম কারণ। নিয়মিত ট্রেনিং করছি। আশা করি দ্রুত দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব। চেষ্টা করব নিজের অভিজ্ঞতা সতীর্থ ফুটবলারদের সঙ্গে মাঠে ভাগ করে নিতে। দলকে ট্রফি জেতানোই একমাত্র লক্ষ্য আমার।"
