১৪ ওভারেই হাসতে হাসতে ম্যাচ জিতে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেই ম্যাচটাই ২৭ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেল পাকিস্তান। নেপথ্যে একটাই কারণ, বিশ্বকাপের পরের পর্বে যেন বাড়তি সুবিধা মেলে। সহজ ম্যাচ কঠিন করে ক্রিকেটমহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব ১৯ দল। প্রশ্ন উঠছে, খেলোয়াড়ি মানসিকতা কি একেবারে বিদায় নিয়েছে পাক ক্রিকেট থেকে?
নামিবিয়ায় অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ চলছে। বৃহস্পতিবার সেখানে খেলত নেমেছিল পাকিস্তান এবং জিম্বাবোয়ে। প্রথমে ফিল্ডিং করতে নেমে দুরন্ত বোলিং করে পাক তরুণ তুর্কিরা। মাত্র ১২৮ রানে জিম্বাবোয়ে অলআউট হয়ে যায়। ৫০ ওভারে পাকিস্তানের টার্গেট ছিল মাত্র ১২৯। সেই রান হাসতে হাসতে তুলে ফেলবে পাকিস্তান, এমনটাই অনুমান করা হয়েছিল। ইনিংসের শুরুটাও সেইভাবেই করেছিল পাকিস্তানের দুই ওপেনার। যেভাবে আগ্রাসী ব্যাটিং করছিল পাকিস্তান, তাতে ১৪ ওভারের মধ্যেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়া উচিত।
কিন্তু আচমকাই রান তোলার গতি একেবারে কমিয়ে ফেলে পাক ব্রিগেড। ধীর গতিতে রান তোলার পাশাপাশি দু'টি উইকেটও হারায় তারা। অত্যন্ত ধীর গতিতে রান তুলে শেষ পর্যন্ত ২৬.২ ওভারে ম্যাচ জেতে পাকিস্তান। পাক ব্রিগেড দেরিতে ম্যাচ জেতার ফলে জিম্বাবোয়ের নেট রানরেট প্রত্যাশার থেকে বেশি অঙ্কে গিয়ে পৌঁছয়। ফলে সুপার সিক্সের ছাড়পত্র পেয়েছে জিম্বাবোয়ে। যদি এই ম্যাচ পাকিস্তান দাপুটে ভাবে জিতত তাহলে নেট রানরেটের বিচারে সুপার সিক্সে যেত স্কটল্যান্ড।
কিন্তু এমনটা কেন করল পাক ব্রিগেড? নেপথ্যে রয়েছে বিশ্বকাপের নয়া অঙ্ক। গ্রুপ পর্ব থেকে পাওয়া পয়েন্ট এবং রানরেট সুপার সিক্সেও কার্যকর হবে, এমনই নিয়ম রয়েছে এবারের বিশ্বকাপে। যেহেতু খুব কম রানরেট নিয়ে সুপার সিক্সে গেল জিম্বাবোয়ে, ফলে পরবর্তী পর্বে অনেকখানি এগিয়ে থাকবে পাকিস্তান। অর্থাৎ নিজেদের বাড়তি সুবিধা আদায় করে নেওয়ার জন্যই মন্থর গতিতে রান তুলেছে পাকিস্তান। ফলে প্রশ্ন উঠছে, খেলার মাঠেও এত চতুরভাবে অঙ্ক কষা কেন? খেলোয়াড়ি মানসিকতা কি পাক ক্রিকেট থেকে উবে গিয়েছে? কেউ কেউ এই আচরণকে সমর্থন করলেও অনূর্ধ্ব ১৯ পাক দলের মানসিকতা নিয়ে চলছে সমালোচনা।
