নিজেদের গোয়ার্তুমিতে বিশ্বকাপ থেকে কার্যত গলাধাক্কা খাওয়ার মুখে বাংলাদেশ। যদিও ভাঙলেই মচকাতে নারাজ বিসিবি। তাঁদের বক্তব্য, বাংলাদেশ ভারতে না খেললে আখেরে ক্ষতি ভারতেরই। বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বিসিসিআই। সত্যিই কি তাই? এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসকে। কিন্তু তিনি প্রশ্নের কোনও উত্তর দিলেন না। শুধু এই প্রশ্নের নয়, বাংলাদেশ সংক্রান্ত সব প্রশ্নেই মুখে কুলুপ ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্টের।
এমনিতে বিশ্বকাপে খেলতে না আসার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত পেশাদারিত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে তাদের। যদিও এই সার সত্য হয়তো বুঝতে পারছেন না ওপার বাংলার ক্রিকেট কর্তারা। বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেই দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্তে ক্ষতি ভারত ও আইসিসির। এক্ষেত্রে তাঁদের নতুন ‘তাস’ ২০ কোটি দর্শক।
আমিনুল বলেন, “বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপ্রেমী দেশ বিশ্বকাপ না খেললে সেটা আইসিসি’র জন্য সুখবর নয়। ক্রিকেট বড় হচ্ছে। ২০২৮-এ অলিম্পিকে যাচ্ছে ক্রিকেট। ২০৩২-এ ব্রিসবেন হোস্ট করছে। ২০৩৬-এ অলিম্পিক বিড করতে চলেছে ভারত, সেখানে কমনওয়েলথ গেমসও হবে। বাংলাদেশ না খেললে সেটা আয়োজক দেশের ব্যর্থতা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা চেষ্টা করে যাব, যাতে আমাদের ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ খেলতে পারে। আমরা হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। আমাদের একটাই দাবি। বিশ্বকাপ খেলতে চাই আমরা। কিন্তু ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে চাই।” একই সুর শোনা যায় বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টার মুখেও।
বৃহস্পতিবার রাতে ভারত-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচের জন্য রায়পুর গিয়েছিলেন বিসিসিআই সভাপতি। সেখানেই বাংলাদেশের এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। কিন্তু বোর্ড সভাপতি কোনও প্রশ্নই শোনেননি। তিনি সাফ বলে দেন, "আমি এখানে এসেছি শুধু ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের জন্য।" বোর্ড সভাপতির এই নীরবতা তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সূত্রের দাবি, এই নীরবতা কৌশলগত অবস্থান। সরকারিভাবে আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার আগে কিছুই বলতে চাইছে না ভারতীয় বোর্ড।
