রুক্ষ পাহাড়ি উপত্যকায় বল করতে ছুটছে এক খুদে কন্যা। বয়স মাত্র ৮ বছর। কিন্তু দেখে কে বলবে? যেন ডেল স্টেইন! বয়সে বড় ছেলেরাও হিমশিম খাচ্ছে তাকে সামলাতে। রাতারাতি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল পাকিস্তানের আইনা ওয়াজিরের বোলিংয়ের ভিডিও। কিন্তু কে জানত, এর জন্য বিরাট বিপদে পড়তে হবে তাকে। বাবাকে গুমখুন করা হয়েছে। এবার যে ওই ভিডিও করে সোশাল মিডিয়ায় আপলোড করেছিল, তাঁকে অপহরণ করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী।
আইনার বাড়ি পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে। তবে এই অঞ্চল বারবার সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু তা বলে তো ক্রিকেট বন্ধ থাকতে পারে না! রুক্ষশুষ্ক উপত্যকায় ক্রিকেটে মাতে ছোট-ছোট বাচ্চারা। সেরকমই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল দিন কয়েক আগে। যেখানে দেখা যায়, ৮ বছরের আইনা আগুনে গতিতে বল করছে। তাকে সামলাতে সমস্যায় পড়ছে বয়সে বড় ছেলেরাও। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই নেটদুনিয়া আইনার সঙ্গে তুলনা শুরু হয় কিংবদন্তি ডেল স্টেইনের সঙ্গে।
কিন্তু তারপর যে ধর্মান্ধ ও সন্ত্রাসবাদীদের বিষ নজরে পড়তে হবে, তা কেউ ভাবেননি। যিনি ভিডিও করেছিলেন, অর্থাৎ জাফরান ওয়াজিরকে অপহরণ করে জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান। কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দিয়েছে এই ভিডিও। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হয়। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "আমার উদ্দেশ্য ছিল আইনার বোলিং প্রতিভা সবাইকে দেখানো। কিন্তু অনেকে বলছে, এটা ইসলাম ও পাস্তুন সংস্কৃতির বিরোধী। আমি তার জন্য ক্ষমা চাইছি। এই মুহূর্তে আমি কয়েকজন অপরিচিতের অধীনে আছি। আমি এই ধরনের ভুল আর করব না।"
জানা গিয়েছে আইনাকে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবার শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তান সুপার লিগের একটি দল তার সমস্ত দায়িত্ব নিচ্ছে। তবে আইনার জীবনে বিপদ নতুন কিছু নয়। তার বাবা ওমর ওয়াজিরকে গুমখুন করেছিল অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা। মাস কয়েক আগে একটা বিস্ফোরণের ঘটনায় ওমরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আসে সেনার পোশাক পরা কয়েকজন। কয়েক দিন পর তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। শরীরে আঘাতের চিহ্ন। এবার সমস্যায় আইনা। কবে-কীভাবে এর থেকে 'মুক্তি' পাবে সে? উত্তর অজানা।
