shono
Advertisement
Final List

‘এসআইআর’ ও ‘চূড়ান্ত’ লিস্ট ঘিরে সমাজ ও রাজনীতি উত্তাল, ‘চূড়ান্ত’ আসলে কী?

চূড়ান্তে পৌঁছনো কি সম্ভব?
Published By: Kishore GhoshPosted: 11:50 PM Mar 01, 2026Updated: 12:34 AM Mar 02, 2026

হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’-এ ‘চূড়ান্ত’ শব্দটিকে এইভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন– ‘কোনও বিষয়ের যতদূর সম্ভব, তদবধি’। আমরা ‘চূড়ান্ত’ শব্দটিকে যত্রতত্র ব্যবহার করে থাকি। যেমন চূড়ান্ত হেনস্তা। চূড়ান্ত বিপর্যয়। চূড়ান্ত অপমান। চূড়ান্ত প্রেম। চূড়ান্ত পাগলামি। কিন্তু এই পাঁচটি বিষয়– হেনস্তা, বিপর্যয়, অপমান, প্রেম, পাগলামি– এদের চূড়ান্ত রূপটি নির্ধারণ করা কি এখনও সম্ভব হয়েছে?

Advertisement

কোনও বিষয়ের চূড়ান্ত পর্যায় বা বিন্দুতে পৌঁছনো মানুষের পক্ষে কি আদৌ সম্ভব? জীবন কিংবা কল্পনা কি কোনও বিষয়ের চূড়ান্তের নাগাল সত্যিই পায়? জীবন সম্ভবত একটি অনিবার্য চূড়ান্তকেই জানে। তার নাম ‘মৃত্যু’। এবং তার দিকেই আমরা প্রতি মুহূর্তে এগিয়ে চলেছি। অথচ আমাদের যাপন জীবনের এই চূড়ান্ত সত্যটিকে ভুলে থাকে প্রায় সারাক্ষণ। বেঁচে থাকা মানেই যে, প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলা, এর থেকে চূড়ান্ত, মারাত্মক সত্য আর কী আছে জীবনে? তবু চূড়ান্ত তালিকা থেকে চূড়ান্ত বিচার, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থেকে চূড়ান্ত পদক্ষেপ– আমাদের জীবনে এসব আপাত এবং মেকি চূড়ান্তের ছড়াছড়ি। এই অবস্থায় সম্ভবত মোক্ষম বিড়ম্বনার জায়গাটা হল, কোনও কিছুর চূড়ান্ত আমাদের কল্পনারও নাগালের বাইরে! বলা যেতে পারে, একটু ভেবে দেখলে আমরা সত্যিই ‘চূড়ান্ত’ শব্দটা নিয়ে কিছুটা কৌতুকী বিপর্যয়ে সময় কাটাতে পারি।

ক্রিস্টোফার হিচেন্‌সের নাম আমরা অনেকেই জানি। ঈশ্বরের তিনি চূড়ান্ত শত্রু– এই অপবাদ এবং শংসা মৃত্যুর পরেও তাঁর নাম থেকে ঝরে যায়নি।

ক্রিস্টোফার হিচেন্‌সের নাম আমরা অনেকেই জানি। ঈশ্বরের তিনি চূড়ান্ত শত্রু– এই অপবাদ এবং শংসা মৃত্যুর পরেও তাঁর নাম থেকে ঝরে যায়নি। যাঁরা তাঁর ‘গড ইজ নট গ্রেট’ বইটা পড়েননি, তাঁরাও তাঁকে হয়তো চিনবেন এই সময়ের এক বিখ্যাত ব্রিটিশ ‘পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল’ রূপে, ইউটিউবে রক্ষিত তাঁর ঈশ্বরবিরোধী উচ্চারণ এবং যুক্তি শুনে। এহেন হিচেন্‌স ক্যানসারে শেষ পর্যায়ে, বিপুল বেদনার মধ্যে, শেষবার মঞ্চে উঠেছেন ঈশ্বরবিরোধী তাঁর অন্তিম উচ্চারণ শোনাতে, সেই সময় অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহ থেকে ভেসে এল এই নিষ্ঠুর বিদ্রুপ– ‘হাউ আর ইউ ডুইং মিস্টার হিচেন্‌স?’ মুহূর্তে হিচেন্‌সের ‘চূড়ান্ত’ উত্তর– ‘ওয়েল, আই অ্যাম ডায়িং, বাট সো আর অল অফ আস।’ বোঝা গেল, এই বিদগ্ধ মানুষটি অন্তত একটি বিষয়ে ‘চূড়ান্ত’ বা অ্যাবসোলিউট সত্যকে জেনেছেন এবং মনে রেখেছেন।

ঈশ্বর আছেন না নেই? এই চূড়ান্ত প্রশ্নের সামনে দু’-একবার পড়তে হয়েছে অ্যালবার্ট আইনস্টাইনকে! ‘আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না।’– বলেছেন তিনি। কিন্তু কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেননি। একটু ভেবে, সামান্য হেসে বলেছেন, এই মহাবিশ্বের অনেক কিছুই আমাদের হিসাবের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে কী করে? কী করে আমাদের গণিত ও বিজ্ঞান মহাবিশ্বের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারছে? তবে কি এক বিপুল বুদ্ধিমত্তা মহাবিশ্বের বুননে মিশে আছে?

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement