ভারতের বিরুদ্ধে শত্রুতা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা পাকিস্তান বোর্ডের 'আত্মহত্যা' হয়ে উঠবে না তো? গত কয়েকবছর ধরেই ভারত-পাক ক্রিকেটীয় সম্পর্কে শত্রুতা বেড়েছে। একে অপরের দেশে খেলতে যায় না দুই দল। এবার পাকিস্তান সুপার লিগের সম্প্রচারও নিষিদ্ধ হল ভারতে। এহেন পরিস্থিতিতে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলে বিরাট আর্থিক ধাক্কা খাবে পিসিবি, বলছে ওয়াকিবহাল মহল।
পাক ক্রিকেটের অন্দরে অনেকেই অসন্তুষ্ট পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির ভূমিকায়। তাঁরা মনে করছেন, ক্রিকেট প্রশাসক নয়, নকভি বোর্ড পরিচালনা করছেন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে। তাই খেলার চেয়েও বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন পড়শি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে। মূলত ভারত বিরোধিতার অবস্থানে তিনি অনড়। সেকারণেই পাকিস্তানের এক নম্বর ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পিএসএলকে ভারত থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন নকভি।
সূত্রের খবর, গতবারের তুলনায় ১৪৯ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হয়েছে পিএসএলের সম্প্রচার সত্ত্ব। কিন্তু নকভির শর্ত, ভারতে সম্প্রচার করা যাবে না। পাক ক্রিকেটমহলের একাংশ মনে করছে, ভারতে ক্রিকেট নিয়ে যা আগ্রহ তাতে পিএসএলের ভালো বাজার হতে পারত। সেখান থেকে মুনাফা আসত। কিন্তু সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছেন নকভি। শুধু তাই নয়, আইপিএলের সময়টাতেই পিএসএল আয়োজন করা হবে বলে সূত্রের খবর। ফলে তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই পাকিস্তানে খেলতে যেতে চাইবেন না। সবমিলিয়ে পাক লিগের ব্র্যান্ড ভ্যালু কমবে।
পাক বোর্ডের ভারত বিরোধিতার সর্বশেষ নিদর্শন বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট। সূত্রের খবর, ১৫ ফেব্রুয়ারি ম্যাচ না খেললে আইসিসি থেকে পাক বোর্ডের বার্ষিক প্রাপ্য ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুরোটাই আটকে দেওয়া হতে পারে। পাক মুদ্রায় এই অঙ্কটা ৯৮৪ কোটি টাকারও বেশি। এই বিপুল অর্থের মাধ্যমে পাক ক্রিকেটের অনেক খরচই মেটানো হয়। কিন্তু সেই অর্থের জোগান আটকে গেলে পাক ক্রিকেটের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়তে পারে। ক্রিকেটারদের বেতন দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ক্রিকেটাররা পাকিস্তান ছেড়ে অন্য কোনও দেশের হয়ে খেলতে চাইবেন। ধ্বংস হয়ে যেতে পারে পাক ক্রিকেট। সেকারণেই পাক ক্রিকেটমহলের একাংশ মনে করছে, বর্তমানে আত্মহত্যার মতো পদক্ষেপ করছে পাক বোর্ড।
