ক্রিকেটবিশ্বকে কাঁদিয়ে পরলোকগমন করেছেন আফগান পেসার শাপুর জাদরান। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে বিরল রোগের কবলে শেষ হয়েছে তাঁর জীবন। প্রাক্তন সতীর্থের শেষকৃত্যে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রশিদ খান-মহম্মদ নবিরা। এমনকী শেষযাত্রা কাঁধে করে বইলেন শাপুরের কফিনও। অন্তত একহাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন তাঁর শেষকৃত্যে। ভারতেই দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন শাপুর। মৃত্যুর পর তাঁর দেহ উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কাবুলে।
প্রাণঘাতী ‘হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ (এইচএলএইচ) রোগে আক্রান্ত হন শাপুর। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়। সেই সময় সাহায্য করেছিলেন আইসিসি প্রধান জয় শাহ। দিল্লিতে হাসপাতালে আইসিইউ’তে ভর্তি করা হয়। কিন্তু এত চেষ্টা সত্ত্বেও লাভ হয়নি। ২০১৭ সালে জঙ্গিহানার হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। অজ্ঞাত আততায়ী তাঁকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালিয়েছিল। কিন্তু অসুস্থতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে হেরে গেলেন জাদরান।
বুধবার জাদরানের দেহ পৌঁছয় কাবুলে। বিমানবন্দর থেকেই কফিন কাঁধে তুলে নেন রশিদ-নবিরা। উপস্থিত ছিলেন আফগান ক্রিকেট সংস্থার সদস্য, জাদরানের পরিবার সকলেই। বিমানবন্দর থেকে তাঁর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় ইদগাহ মসজিদে। সেখানে অন্তত ১হাজার মানুষ অংশ নেন শেষকৃত্যে। মসজিদ থেকে কাঁধে করে কফিন নিয়ে সমাধিস্থল পর্যন্ত যান আফগানিস্তানের প্রথমসারির ক্রিকেটার এবং জাদরানের পরিবারের সদস্যরা। মারানজান হিলে কবরস্থ করা হয় আফগান ক্রিকেটের অন্যতম স্থপতিকে। চোখের জলে চিরবিদায় জানান রশিদ-নবিরা।
২০০৯ সালে অভিষেক হয় শাপুর জাদরানের। রিফিউজি হয়ে দীর্ঘদিন পাকিস্তানে কাটিয়েছেন। সেই সময় মহম্মদ নবি, দওলাত জাদরানদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা শুরু। ২০০৯ সালে আফগানিস্তান যখন প্রথম ওয়ানডে খেলে, সেই দলে ছিলেন শাপুর। আফগানিস্তানের হয়ে ৪৪টি ওয়ানডেতে ৪৩টি উইকেট এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টিতে ৩৭টি উইকেট পেয়েছিলেন। মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই থেমে গেল তাঁর জীবন।
