একজন কিংবদন্তি গায়ক। অন্যজন ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা। এবার একই সূত্রে জড়িয়ে গেল কিশোর কুমার ও বিরাট কোহলির নাম। মুম্বইয়ের জুহুতে কিশোর কুমারের বিখ্যাত বাংলো 'গৌরী কুঞ্জ'-এ রেস্তরাঁ খুলেছেন বিরাট কোহলি। ২০২২ সালে তিনি বাংলোটি পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেন। একসময় এই বাংলোয় ভেসে বেড়াত কিশোর কুমারের কণ্ঠ, সুর আর হাসির রোল। এখন সেই বাড়িরই একাংশে চলছে ভারতীয় তারকা বিরাট কোহলির 'ওয়ানএইট কমিউন' রেস্তরাঁ।
মায়ের নাম গৌরী দেবীর স্মৃতিতে বাড়িটির নাম রেখেছিলেন কিশোর কুমার। কেরিয়ারের মধ্যগগনে এই বাংলো তৈরি করলেও গৌরী কুঞ্জকে কখনও বিলাসিতা হিসাবে দেখেননি তিনি। বরং মুম্বইয়ের কর্মব্যস্ত জীবন থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে শান্তির খোঁজেই গড়ে তুলেছিলেন গৌরী কুঞ্জ। সেখানে রয়েছে খোলা উঠোন, বিস্তীর্ণ লন। এককথায় তরুচ্ছায়াঘেরা এই বাংলোতে গেলে প্রশান্তিতে প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। এই বাড়িটিই ছিল কিশোর কুমারের সবচেয়ে প্রিয় ঠিকানা।
এই বাংলো নিয়ে রয়েছে অসংখ্য গল্প। ১৯৮৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে কিশোর কুমার বলেছিলেন, বাগানের গাছগুলিই তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ। অনেক গাছের নামও তিনি নিজেই রেখেছিলেন। অবসর পেলেই তাঁদের সঙ্গেই সময় কাটাতেন। সেই বাড়ির গেটে ঝুলত বিখ্যাত সতর্কবার্তা, 'বিঅ্যাওয়ার অফ কিশোর' (Beware of Kishor)। অর্থাৎ কিশোর থেকে সাবধান। কৌতুকপ্রিয় অথচ নিভৃতচারী কিশোরের ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি ছিল সেই বোর্ড।
সঙ্গীত পরিচালক, শিল্পী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের আনাগোনায় একসময় মুখর থাকত গৌরী কুঞ্জ। বহু জনপ্রিয় গানের পরিকল্পনা, আড্ডা আর সৃজনশীলতার সাক্ষী এই বাংলো। ২০২২ সালে বাড়িটির একটি অংশে চালু হয় বিরাট কোহলির 'ওয়ানএইট কমিউন'। তবে সংস্কারের সময় পুরনো বাড়ির চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখার দিকেই জোর দেওয়া হয়। ইট-কাঠ-পাথরের ব্যবহার, চারপাশের গাছগাছালি, বড় কাচের জানালা, ম্রিয়মাণ আলো– সব মিলিয়ে নতুন রূপে ফিরে আসে কিশোরের প্রিয় আশ্রয়ের আবহ। এক সময় যেখানে সৃষ্টি হয়েছে অমর সব সুর, আজ সেখানে খাদ্যরসিকদের ভিড়। তাঁরা সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন কিশোর ৯৭তম জন্মদিনেও।
