প্রথম ভারতীয় হিসাবে লর্ডসে সেঞ্চুরি। ইতিহাস গড়ে সমালোচকদের জবাব দিলেন রোহিত শর্মা। গোটা কেরিয়ার যখন প্রশ্নের মুখে, সেসময় দাঁড়িয়ে নিজের কেরিয়ারের ৩৪ নম্বর সেঞ্চুরিটি করে গেলেন ভারতীয় ক্রিকেটের হিটম্যান।
দু'দশক ধরে জাতীয় দলের জার্সিতে দেশকে একের পর এক ম্যাচ জিতিয়েছেন। জোড়া টি-২০ বিশ্বকাপ এনেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দিয়েছেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে হেন কোনও রেকর্ড নেই, যা তাঁর নামের পাশে শোভা পায় না। অনেকেই বলেন তিনি সর্বকালের সেরা ওপেনারদের মধ্যে অন্যতম। অথচ কেরিয়ারের শেষলগ্নে এসে তাঁকে প্রতিনিয়ত পরীক্ষা দিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করতে হচ্ছে। বারবার প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, দলে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে। সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁর অবসরের খবর।
রবিবার লর্ডসের ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে বহু প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ছিল রোহিতের। দিন কয়েক ধরেই সংবাদমাধ্যমে শোনা যাচ্ছিল, এই ম্যাচটাই নাকি রোহিতের কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ। এরপর নাকি তাঁকে আর জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার সুযোগই দেওয়া হবে না। একপ্রকার বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে পাঠানো হবে। শেষ ১০ ম্যাচে তাঁর ব্যাটে সেভাবে রান আসেনি। তাই চাপটা ছিল পাহাড়প্রমাণ। কিন্তু তাঁর নাম রোহিত শর্মা। চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে কোনওকালেই শেখেননি তিনি। বরং যখনই তাঁর কেরিয়ার নিয়ে, দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সপাটে পুল করে সেসব প্রশ্নকে মাঠের বাইরে ফেলেছেন। যেমনটা রবিবার করলেন।
ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩৮৮ রানের পাহাড়প্রমাণ রান তাড়া করতে নেমে রোহিত শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন। মোটামুটি একশোর খানিক বেশি স্ট্রাইক রেট রেখেই খেলছিলেন। শুধু পঞ্চাশের আগে খানিক মন্থর হয় ইনিংসের গতি। কিন্তু ৫০ পেরোনোর পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি হিটম্যানকে। পর পর বাউন্ডারি-ছক্কায় যেমন টিমের রানের গতি বাড়িয়েছেন, তেমন বাড়িয়েছেন নিজের স্ট্রাইক রেট। শেষমেশ কেরিয়ারের ৩৪ তম সেঞ্চুরি। গোটা তিনেক রেকর্ডও গড়েছেন। ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক ক্রিকেটার হিসাবে সেঞ্চুরির মালিক এখন তিনি। আগে এই রেকর্ড ছিল শচীন তেণ্ডুলকরের দখলে। ইংল্যান্ডের মাটিতে এটি রোহিতের অষ্টম সেঞ্চুরি। যা কিনা নির্দিষ্ট একটি দেশে কোনও বিদেশি ক্রিকেটারের করা সর্বাধিক সেঞ্চুরি। এবং অবশ্যই লর্ডসের মাটিতে কোনও ভারতীয়র করা এটিই প্রথম শতরান।
