গত কয়েক বছরে বাংলার অন্যতম সফল কোচের নাম বললে, সবার আগে সৌরাশিস লাহিড়ীর থাকার কথা। কিন্তু অদ্ভুতভাবে এবার বাংলার বিভিন্ন টিমের কোচেদের যে তালিকা তৈরি হয়েছে, সেখানেও সৌরাশিসকে ভাবা হয়নি! অথচ বর্তমানে জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে কোচিংয়ের জন্য বাংলা থেকে একমাত্র তিনিই নিয়মিত ডাক পান। কিন্তু তারপরও সৌরাশিসের নিজের রাজ্যেই সুযোগ হচ্ছে না!
যে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে রীতিমতো বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিএবির তরফ থেকে বলা হচ্ছে, কোচ নিয়োগের জন্য যে কমিটি তৈরি করা হয়েছে, তাদের নাকি সৌরাশিসের প্রেজেন্টেশন পছন্দ হয়নি। কিন্তু শোনা গেল, ওই ইন্টারভিউ পর্বে সেরকম কোনও প্রেজেন্টেশনের ব্যবস্থাই ছিল না। তাছাড়া সৌরাশিস পরীক্ষিত কোচ। তাঁর কোচিংয়ে অনূর্ধ্ব তেইশ টিম ট্রফি জিতেছে। ফাইনাল খেলেছে। গতবার বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগে কোচ হিসাবে টিমকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। তাঁকে নতুন কী করে প্রেজেন্টেশন দিতে হবে? সর্বোপরি প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে, কোচ নিয়োগের কমিটি নিয়েও।
শোনা গেল, ওই কমিটির এক সদস্য নাকি ইন্টারভিউ পর্বে এক প্রাক্তন ক্রিকেটার জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি আগে কখনও কোচিং করিয়েছেন কি না! অথচ ওই প্রাক্তন ক্রিকেটার গতবার বাংলার বয়সভিত্তিক এক টিমের কোচ ছিলেন। যা শোনার পর কমিটিরই কেউ কেউ অবাক হয়ে যান! অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছেন, সিএবি ওই কমিটিতে এমন কাউকে কী করে রাখতে পারে, যিনি বঙ্গ ক্রিকেটের হালহকিকত সম্পর্কে ন্যূনতম অবগত নন! এঁদের যোগ্যতা কী রয়েছে সৌরশিসের বিচার করার?
ওই কমিটির এক সদস্য নাকি ইন্টারভিউ পর্বে এক প্রাক্তন ক্রিকেটার জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি আগে কখনও কোচিং করিয়েছেন কি না! অথচ ওই প্রাক্তন ক্রিকেটার গতবার বাংলার বয়সভিত্তিক এক টিমের কোচ ছিলেন। যা শোনার পর কমিটিরই কেউ কেউ অবাক হয়ে যান!
সৌরাশিসের বাদ পড়ার ব্যাপারটা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হতেই ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে সিএবি। শোনা গেল, সৌরাশিসকে নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে। কারও কারও মতে, বিতর্ক এড়াতে আলাদা ফরম্যাটের জন্য আলাদা কোচের ভাবনা-চিন্তাও করা হচ্ছে। শোনা গেল, বাংলা টিমের বোলিং কোচের পদ এখনও খালি। সেই জায়গায় সৌরাশিসের নাম ভাবা হতে পারে। কিন্তু যাঁকে নিয়ে এত 'দায়ে' পড়ে ভাবনাচিন্তা, তিনি তাতে আমল দেবেন তো? রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌরাশিস ইঙ্গিতবাহী পোস্ট করলেন। লিখলেন, 'অনেকে আমার নৈঃশব্দ্যকে দুর্বলতা মনে করছেন। কিন্তু তাঁরা ভুলে গিয়েছেন, সবচেয়ে মারাত্মক ঝড়ও ওঠে নীরবতা থেকে। সীমা ছাড়িয়ে গেলে দাবানলে পরিণত হতে পারি, যা কোনও সতর্কবার্তা ছাড়া সব কিছু ধ্বংস করে দিতে পারে।'
সিএবি সামলে, ঝড় আসছে!
