বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি। বিশ্বের সেরা দ্বৈরথগুলির মধ্যে অন্যতম। কিন্তু সেই সিরিজের একটাও ম্যাচ ইডেনে দেওয়া হয়নি। দুই পড়শি গুয়াহাটি এবং রাঁচিতে খেলা হবে ঐতিহ্যবাহী সিরিজ। কিন্তু ক্রিকেটের নন্দনকানন সেখানে বঞ্চিত। এহেন 'অবহেলা'র পর এবার মুখ খুললেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। সিএবি প্রেসিডেন্ট জানালেন, ইডেনে বড়মাপের টেস্ট হলে ভালোই হয়। সৌরভ নিজেও চান ইডেনে টেস্ট ম্যাচ হোক।
আগামী বছর জানুয়ারি মাসে শুরু হবে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি। পাঁচ টেস্টের সিরিজ চলবে মার্চ মাস পর্যন্ত। সেই ম্যাচগুলি খেলা হবে নাগপুর, চেন্নাই, গুয়াহাটি, রাঁচি এবং আহমেদাবাদে। বিসিসিআইয়ের তরফে সূচি ঘোষণার পরেই সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেকে। ইডেনের মতো ঐতিহ্যশালী মাঠকে 'উপেক্ষা' করে কেন রাঁচি-গুয়াহাটির মতো অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বর্ডার-গাভাসকর ট্রফির ম্যাচ দেওয়া হল, প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। তাঁদের দাবি, ক্রিকেট রাজনীতির শিকার হচ্ছে ইডেন।
ক্রিকেটমহলের অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গুয়াহাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট আয়োজিত হয়েছে। আইপিএলেও সেখানে কয়েকটি ম্যাচ খেলবে রাজস্থান রয়্যালস।
যদিও এই বিতর্ক নিয়ে কিছু বলেননি সৌরভ। তাঁর কথায়, "ইডেনে বড় টেস্ট ম্যাচ হলে অবশ্যই খুব ভালো লাগে। সিএবি প্রেসিডেন্ট হিসাবে, প্রাক্তন ক্রিকেটার হিসাবে আমি চাই ইডেনে টেস্ট খেলা হোক। কিন্তু ইতিমধ্যেই ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলা হয়েছে। টি-২০ বিশ্বকাপ, আইপিএল সমস্ত ম্যাচই রয়েছে। গুয়াহাটি এবং রাঁচিতে টেস্ট ম্যাচ হচ্ছে বলে আমি আনন্দিত। ইডেনে টেস্ট হওয়া যেমন দরকার, তেমনই বোঝা উচিত যে অন্যান্য কেন্দ্রগুলিতেও ম্যাচ প্রয়োজন।"
যদিও ক্রিকেটমহলের অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গুয়াহাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট আয়োজিত হয়েছে। আইপিএলেও সেখানে কয়েকটি ম্যাচ খেলবে রাজস্থান রয়্যালস। পাশাপাশি জাতীয় ক্রিকেটমহলে অনুচ্চস্বরে প্রায়ই একটা অভিযোগ করা হয় যে, ভারতে বিশ্বপর্যায়ের টুনামেন্টের আসর বসলে, প্রভাবশালীদের ‘অঙ্গুলিহেলনে’ সব মহার্ঘ্য খেলা পেয়ে থাকে আহমেদাবাদ। বিশ্বকাপ ফাইনাল, ভারত-পাক ম্যাচ, আইপিএল ফাইনাল-সমস্তই আহমেদাবাদে খেলা হয়। এবার বর্ডার-গাভাসকর ট্রফির ম্যাচও সেখানে খেলা হবে। ক্রিকেট প্রশাসকদের একাংশের যুক্তি, তথাকথিত মেগাসিটি থেকে নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ক্রিকেটকে। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নানা স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাতে ক্রিকেটের কৌলিন্য, ক্রিকেটের প্রতি প্যাশন বজায় থাকছে কি?
