পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে নামা ১৬ বছরের কিশোর শচীন তেণ্ডুলকরকে বিপক্ষ নিদান দিয়েছিল, 'বাড়ি ফিরে গিয়ে দুধ খাও'। খানিকটা সেরকমই কটাক্ষ ধেয়ে এল বৈভব সূর্যবংশীর দিকেও। সোমবার শ্রীলঙ্কা এ দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বৈভবদের ভারত এ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর হেরে যায় ভারত। কিন্তু ম্যাচে কার্যত হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায় দুই দলের দ্বৈরথ।
সোমবারের ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখান থেকেই সমস্যা শুরু। সূত্রের খবর, বৈভবকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করেন ভিশেন হালামবাগে নামে শ্রীলঙ্কা এ দলের এক ক্রিকেটার। তিনি বৈভবকে বলেন, "খেলা শেষ। এবার বাড়ি যাও।" এই কথাতেই মেজাজ হারিয়ে ফেলে ১৫ বছরের কিশোর। তেড়ে যায় বিপক্ষ ক্রিকেটারদের দিকে। দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় হাতাহাতিও। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন অন্যরা। কোনওমতে অশান্তি মেটানো হয়। ম্যাচের পর গোটা বিষয়টি নিয়ে শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমে আলোচনা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।
সাধারণত এ দলের মধ্যে ছোটখাট কোনও সমস্যা হলে সেই নিয়ে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করে না আইসিসি। কিন্তু এই ম্যাচটি লাইভ দেখানো হচ্ছিল। তাছাড়া বৈভবের উপর ক্রিকেটমহলের নজর থাকেই। তাই এক্ষেত্রে আইসিসি কোনও পদক্ষেপ করতে পারে বলেই মনে করছে ক্রিকেটমহল। তবে বৈভবের আচরণে বিরক্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ। বিপক্ষ স্লেজিং করলেও তেড়ে যাওয়া উচিত হয়নি বৈভবের, এমনটাই মনে করছেন অনেকে। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক কেরিয়ার গড়তে গেলে এই ধরনের সমস্যা সমাধান করতে হবে বৈভবকে।
শ্রীলঙ্কা বোর্ড আবার প্রশ্ন তুলেছে সুপার ওভার নিয়ে। সূত্রের খবর, নির্ধারিত ৫০ ওভারে ম্যাচ টাই হওয়ার পর ভারত অধিনায়ক তিলক বর্মার জোরাজুরিতেই শুরু হয় সুপার ওভার। শ্রীলঙ্কা রাজি ছিল না। আলো খুব খারাপ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও খেলা চালিয়ে যান আম্পায়াররা। মূলত সেখান থেকেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারাও মনে করছেন, সুপার ওভার খেলানোই উচিত হয়নি। সবমিলিয়ে, ছোটদের খেলা হলেও বড় বিতর্ক বেঁধে গেল এ দলের ত্রিদেশীয় সিরিজে।
