ভারতীয় সময় শনিবার রাতে হারারে থেকে রওনা হয়েছে সদ্য বিশ্বজয়ী অনূর্ধ্ব ১৯ ভারতীয় দল। প্রায় ২০ ঘণ্টা লাগবে দুবাই ঘুরে তাদের মুম্বই ফিরতে। হারারে ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে বসেই হোয়াটসঅ্যাপ কলে 'সংবাদ প্রতিদিন'-এর প্রশ্নের জবাব দিলেন দলের মুম্বইজাত বাঙালি উইকেটকিপার-ব্যাটার অভিজ্ঞান কুণ্ডু।
প্রশ্ন: প্রথমেই আপনাকে শুভেচ্ছা। বিশ্বজয়ের অনুভূতিটা ঠিক কেমন?
অভিজ্ঞান: বলে বোঝানো সম্ভব নয়। এখনও যেন ঘোরের মধ্যে রয়েছি। খিলান (প্যাটেল) ক্যাচটা ধরার পরের ক্ষণে যেন সবকিছু স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই মুহূর্তটা মনের মধ্যে ফিরে ফিরে আসছে। আসলে এই সাফল্যটা আমাদের দু'বছরের লড়াইয়ের ফল। তাই একটু বেশিই মধুর।
প্রশ্ন: ইংল্যান্ড ভালো ব্যাট করার সময় আপনি নাকি চাপে ছিলেন? কীভাবে সামলালেন সেই চাপ?
অভিজ্ঞান: একটু চাপ তো ছিলই। তবে আমি চাপে কাবু হয়ে যাইনি। বরং মাথা ঠান্ডা রাখার উপর জোর দিয়েছিলাম। আসলে বৈভব (সূর্যবংশী) ওরকম ব্যাটিং করার পর টিম অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে গিয়েছিল। জানতাম, এত বড় রান তাড়া করা সহজ হবে না ইংল্যান্ডের পক্ষে। তারপরও ম্যাচটা যখন ফাইনাল, চাপ তো একটু নিতেই হবে।
প্রশ্ন: কিছুদিন আগে আপনারা এশিয়া কাপে ফাইনাল হেরেছেন পাকিস্তানের কাছে। আবার বাংলাদেশের সঙ্গে ক্রিকেটে একটা টানাপোড়েন চলছে। এই দুই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে খেলার সময় আপনাদের ভাবনা কী ছিল?
অভিজ্ঞান: আলাদা কোনও ভাবনা ছিল না। এশিয়া কাপে ফাইনাল হার একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ওই প্রতিযোগিতায় তার আগে আমরা কিন্তু পাকিস্তানকে হারিয়েছি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও আগে জিতেছি। তাই বাড়তি কোনও চাপ ছিল না আমাদের উপর। নিজেদের স্বাভাবিক খেলার উপর জোর দিয়েছি সবসময়। দু'ম্যাচেই আমাদের ব্যাটিং খুব একটা ভালো হয়নি। তবে বোলারদের উপর ভরসা ছিল। দল হিসাবে লড়ে জিতেছি।
প্রশ্ন: আপনার বাবা বলেছেন যে বাড়ি ফেরার পর আপনাকে পড়তে বসাবেন। বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েও কী পড়াশোনা করেছেন?
অভিজ্ঞান: করেছি। আসলে সামনেই বোর্ডের পরীক্ষা দেব। খেলার চাপে বেশি সময় পাই না। তাই যেটুকু সুযোগ পাই, কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। বিশ্বকাপে খেলার ফাঁকে ফাঁকেও তাই পড়াশোনা করেছি।
প্রশ্ন: এবার লক্ষ্য কী আপনার?
অভিজ্ঞান: এরপর যে ম্যাচ আছে খেলব। জাতীয় দলের হয়ে, রাজ্য দলের হয়ে। বা ক্লাব ম্যাচে। ধীরে ধীরে নিজেকে পরবর্তী পর্যায়ের জন্য তৈরি করব।
