খাতায়কলমে তিনি টি-টোয়েন্টি খেলছেন। কিন্তু মন যেন পড়ে আছে টেস্ট ক্রিকেটে। অন্তত তাঁর ব্যাটিং দেখে এমন মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। বলা হচ্ছে বাবর আজমের কথা। একটা সময় যাঁকে বিরাট কোহলির সঙ্গে তুলনা করা হত। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে তাঁর ঠুকঠাক ব্যাটিং দেখে সুর চড়িয়েছেন বাঘা বাঘা প্রাক্তনীরা। এমনকী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হারের পর সতীর্থ শাহিন শাহ আফ্রিদিও পর্যন্ত বাবরদের দায়ী করেছেন। এবার নিজের পরিবারের কাছেই কটাক্ষের শিকার হতে হল তাঁকে। বাবরকে এবার নিশানা করলেন তাঁর দাদা উমর আকমল।
ইংরেজদের বিরুদ্ধে ২৪ বলে ২৫ রান করেছিলেন বাবর। স্ট্রাইক রেট মাত্র ১০৪.১৭। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যা একেবারেই বেমানান। এমন মন্থর ব্যাটিংয়ের পর বাবরের কাকাতো দাদা উমর আকমল পর্যন্ত খোঁচা দিতে ছাড়েননি বাবরকে। উল্লেখ্য, উমর নিজেও পাকিস্তানের হয়ে ১৬ টেস্ট, ১২ ওয়ানডে এবং ৮৪ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। একাধিকবার ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছেন। সেই পরিসংখ্যানই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দু’টো ছবি দিয়েছেন উমর। একটা ছবি ২০১৪ সালের। যে ছবিটা খাস পোস্টদাতার। সেখানে দেখা যাচ্ছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নামার সময় পাকিস্তানের স্কোর এবং তিনি যখন ফিরছেন, তখনকার স্কোর। অন্য ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইংল্যান্ডের ম্যাচে বাবর যখন নামছেন সেই সময়কার স্কোর। আর বাবর যখন আউট হয়ে ফিরছেন, সেই সময়কার রান।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাবর যখন ব্যাট করতে নামেন, তখন পাকিস্তানের রান ছিল ২ উইকেটে ৩২। তিনি যখন সাজঘরে ফিরছেন, তখন পাক দলের রান ৩ উইকেটে ৭৩। বাবর করেন ২৪ বলে মাত্র ২৫ রান। এরপর আসা যাক ১২ বছর আগের কথায়। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে উমর যখন ব্যাট করতে নেমেছিলেন, সেই সময় পাকিস্তানের রান ছিল ২ উইকেটে ২৫। তিনি যখন আউট হন, তখন দলের রান ৫ উইকেটে ১৮০। সেই ম্যাচে ৫৪ বলে ৯৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছিলেন আকমল। পাকিস্তান ওই ম্যাচ জিতেছিল ১৬ রানে।
এই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হওয়ার কিছু ঘণ্টা পর পালটি খেয়েছেন উমর। আরও একটা পোস্টে তাঁর সাফাই, 'আমি কখনওই বাবরের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে চাইনি। ওকে একজন বড় মাপের ক্রিকেটার হিসাবে সম্মান করি। পাকিস্তান দলে ওর অবদান অনস্বীকার্য। ও বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার। আমি কেবল এটুকুই বলতে চাই, বাবর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মিডল অর্ডার ব্যাটার নয়। ওই পজিশন ওর ব্যাটিং স্টাইলের সঙ্গে খাপ খায় না। ওই পোস্টটি ছিল এক ইউজারের রিপোস্ট। সেখানে সাধারণ পরিসংখ্যানভিত্তিক এক বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।'
