সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য দরাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চার শতাংশ ডিএ বাড়ছে (DA Hike) রাজ্য সরকারি কর্মীদের। আজ বৃহস্পতিবার বঙ্গ বিধানসভায় ভোট অন অ্যাকাউন্ট বা অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সেখানেই ডিএ নিয়ে বড় ঘোষণা করেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকেই বর্ধিত হারে ডিএ পাওয়া যাবে। এর ফলে একধাক্কায় বেশ কিছুটা বাড়তে চলেছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন। একইসঙ্গে এদিন অন্তর্বর্তী বাজেটে সপ্তম পে কমিশন গঠন করা হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা তৃতীয় সরকারের এটা শেষ অধিবেশন। ফলে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেটের দিকে গোটা রাজ্যের মানুষের নজর ছিল। বিশেষ করে ডিএ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বাজেট বরাদ্দ হয় কিনা তা নিয়ে চর্চা চলছিল। এর মধ্যেই একেবারে কল্পতরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তথ্য বলছে, এতদিন ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। নতুন করে ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা হওয়ায় এবার তা বেড়ে দাঁড়াল ২২ শতাংশে। কিন্তু এখনও কেন্দ্রীয় রাজ্য সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ ফারাক রয়ে গেল। বাজেট ঘোষণার আগে পর্যন্ত কেন্দ্র এবং রাজ্য ডিএ'র ফারাক ছিল ৪০ শতাংশ। ভোটের আগে এই ঘোষণায় তা কমে দাঁড়াল ৩৬ শতাংশে।
তথ্য বলছে, এতদিন ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছিলেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। নতুন করে ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা হওয়ায় এবার তা বেড়ে দাঁড়াল ২২ শতাংশে।
বলে রাখা প্রয়োজন, আজ বৃহস্পতিবারই বকেয়া ২৫ শতাংশ ডিএ মেটাতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। অবিলম্বে সেই টাকা মেটাতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ডিএ পরিবর্তনশীল। সেই কারণে ৬ মার্চের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে বাকি বকেয়ার কতটা পরিমাণ ডিএ দেওয়া হবে তা নিয়ে। ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে প্রথম কিস্তির টাকা। মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হবে রিপোর্ট।
মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের। ছবি: পিণ্টু প্রধান
অন্যদিকে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের কথাও বলা হয়েছে অন্তর্বর্তী বাজেটে। যেখানে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার সরকারি কর্মীদের চাহিদার বিষয়ে সম্পূর্ণ সংবেদনশীল। রাজ্যের ষষ্ঠ পে কমিশনের সুপারিশের কার্যকাল ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। এরপরেই সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।
