ক্রিকেটের চেনা ময়দান থেকে এবার তিনি ভোটের ময়দানে। গত কয়েক দিন ধরেই শিবশঙ্কর পালকে (Shib Sankar Paul) নিয়ে জল্পনা চলছিল। শোনা যাচ্ছিল, আসন্ন বিধানসভা ভোটে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হতে পারেন। মঙ্গলবার সকালে যখন তিনি তৃণমূলে যোগ দিলেন, তখনই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিলেন। তুফানগঞ্জ বিধানসভা থেকে এবার ভোটে লড়ছেন শিবশঙ্কর।
বিগত কয়েক বছর ধরেই ম্যাকোর (শিবশঙ্করকে এই নামেই চেনে ময়দান) কাছে প্রস্তাব আসছিল। এবার আর প্রস্তাব ফেরাতে পারেননি। কিন্তু হঠাৎ করে ক্রিকেট ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে কেন? শিবশঙ্কর বলছিলেন, "রাজনীতিতে আসার একটাই কারণ- মানুষের সেবা করতে চাই। আমি এখনও নিজের মতো করে নিজের সাধ্যমতো মানুষের সেবা করার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আরও বেশি করে মানুষের সেবা করতে চাই। আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌঁছতে চাই। ওঁদের সহযোগিতা করতে চাই। যদি জিততে পারি, তাহলে আরও বেশি কাজ করতে পারব। এরকম প্রচুর মানুষ রয়েছেন, যাঁদের নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। চেষ্টা করব তাঁদের পাশে থাকার। তাঁদের সাহায্য করার। মানুষের সঙ্গে বসব। তাঁদের কী আবদার আছে, কী সমস্যা আছে, সেগুলো শুনব। তারপর চেষ্টা করব সে'সব কিছু সমাধান করার।"
ক্রিকেটের বাইশ গজ তাঁর কাছে খুব চেনা। কিন্তু রাজনীতির বাইশ গজের সেরকম অভিজ্ঞতা নেই। তাতে অবশ্য একটুও ঘাবড়াচ্ছেন না। শিব বলছিলেন, "যিনি প্রথমবার ভোটে লড়েছেন, তাঁর কাছেও একটা সময় রাজনীতি নতুন ছিল। তারপর অভিজ্ঞ হয়েছেন। আমি যখন খেলা শুরু করি, সেটাও আমার কাছে নতুন ছিল। শুরুতেই কি আমি বাংলার হয়ে খেলেছি? না ভারতীয় টিমে সুযোগ পেয়েছি? ক্লাব ক্রিকেট খেলতে হয়েছে। সেখানে লড়াই করতে হয়েছে। অভিজ্ঞতা বেড়েছে। এখানেও ব্যাপারটা একইরকম। এটুকু বলতে পারি, শচীন তেন্ডুলকরকে বোলিং করার সময় যেমন ভয় পেতাম না, ভোটের ময়দানে লড়তেও তেমন কোনও ভয় পাচ্ছি না। সবসময় খেলতে নামতাম জেতার জন্য। এখানেও তাই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেক ধন্যবাদ। সুযোগ দেওয়ার জন্য। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ। ওঁদের নেতৃত্বে লড়াই করব।"
যিনি প্রথমবার ভোটে লড়েছেন, তাঁর কাছেও একটা সময় রাজনীতি নতুন ছিল। তারপর অভিজ্ঞ হয়েছেন। আমি যখন খেলা শুরু করি, সেটাও আমার কাছে নতুন ছিল। শুরুতেই কি আমি বাংলার হয়ে খেলেছি? না ভারতীয় টিমে সুযোগ পেয়েছি?
গত দু'দশক ধরে কলকাতায় থাকলে কী হবে, তুফানগঞ্জ শিবশঙ্করের জন্মভিটে। সেখানকার সবকিছুর সঙ্গে মিশে রয়েছেন শিবশঙ্কর। তুফানগঞ্জের প্রত্যেকটা মানুষ অসম্ভব ভালোবাসেন তাঁকে। ভোটে নিজে তাঁদের অনেক কিছু ফিরিয়ে দিতে চান শিব। ভোটে জিততে পারলে কলকাতায় নর্থবেঙ্গল হস্টেল করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। বলছিলেন, "ক্রিকেট বলুন কিংবা ফুটবল। দেশের সব খেলাতেই দেখবেন মফস্বল থেকে ক্রীড়াবিদরা উঠে এসেছেন। তাই ওঁরা যাতে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পান, সেটা দেখব। উন্নত মানের জিম থেকে শুরু করে আরও ভালো ভালো স্পোর্টস কমপ্লেক্স তৈরি করার ইচ্ছে রয়েছে। যদি ভোটে জিততে পারি, তাহলে ইচ্ছে রয়েছে দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলব, কলকাতায় একটা নর্থবেঙ্গল হস্টেল তৈরি করে দেওয়ার জন্য। প্রচুর ছেলে-মেয়ে রয়েছে, যারা এখানে থাকার খরচ বহন করতে পারে না। যার ফলে মাঝপথেই খেলা ছেড়ে দিতে হয়। যদি ওই হস্টেল তৈরি করা যায়, তাহলে ওদের অনেক উপকার হবে। কম খরচে থাকতে পারবে।"
