নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের প্রধান গেটের সামনে এসে দাঁড়াতেই অটোচালক বলে উঠলেন, "আজ এখানকার অবস্থা দেখছেন। ম্যাচের দিন সকাল থেকে কী হবে, একবার ভাবুন।" স্টেডিয়ামের সামনের রাস্তায় ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে। অনেক সমর্থককে দেখা গেল, দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কেউ কেউ ফাইনালের টিকিট খুঁজতে এসেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াংখেড়েতে ভারত জেতার পর থেকেই টিকিটের চাহিদা আকাশ ছুঁয়েছে। আগামী চব্বিশ ঘণ্টায় তা হাহাকারের চেহারা নেবে, এখন থেকেই বলে দেওয়া যায়। দশদিন আগে এখানেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর সেমিফাইনাল কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল ভারতের। সেই ধাক্কা কাটিয়ে সূর্যকুমার যাদবদের আবারও চ্যাম্পিয়নের মতোই দেখাচ্ছে। কেউ কেউ আবার এখানে রবিবারের ফাইনাল-যুদ্ধে ভারতকে অবিসংবাদী ফেভারিট হিসেবে ঘোষণাও করে দিলেন। বরং মাঠেই দু'তিনজনের মধ্যে আলোচনা চলছিল, ভারত প্রথমে ব্যাট করলে কত রান তুলবে-দু'শো না আড়াইশো।
যদিও ওয়াংখেড়ের মতো অতটাও পাটা উইকেট আহমেদাবাদে হবে কি না, সেটা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেল, ফাইনালের বাইশ গজ কীরকম হবে, এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চারটে উইকেট তৈরি রাখা হচ্ছে। যার মধ্যে একটা কালো মাটির উইকেটও রয়েছে। বিকেলে নিউজিল্যান্ড টিম এসে ঘণ্টা তিনেক ট্রেনিং সেরে গেল। ভারতীয় টিমের অবশ্য এদিন কেউ আর মাঠে আসেননি। শুক্রবার বিকেলই টিম মুম্বই থেকে আহমেদাবাদ পৌঁছেছে। তাই আর কেউ মাঠ মুখো হননি। তবে শিশির বড় একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের গ্লেন ফিলিপসও বারবারই বলছিলেন সেটা। তিনি শুনিয়ে গেলেন, "ভারতে শিশির একটা ফ্যাক্টর। এর আগেও আমরা সেটা দেখেছি। বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যাতে শিশিরের প্রভাব কম করা যায়। অনেক সময় সেটা কাজ করে। আবার অনেক সময় করে না।"
বরুণের ফর্ম যাই থাকুক না কেন, তাঁরা অনেক বেশি সতর্ক। ফিলিপসের কথায়, "এর আগে বেশ কয়েকবার ওর বিরুদ্ধে আমরা খেলেছি। সেটা অবশ্যই কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। বরুণ বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। বেশি কিছু ভাবছি না। প্রত্যকটা ডেলিভারি দেখে খেলতে হবে।"
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কার্যত নিঃশব্দে ফাইনালে উঠেছে কিউয়িরা। শুরু থেকেই ফেভারিটের তালিকায় খুব একটা কেউ রাখেননি নিউজিল্যান্ডকে। এমনকী ইডেন সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকেই ভোট পড়েছিল। ফিলিপস অবশ্য সে সব নিয়ে বেশি ভাবতে চান না। তাদের কাছে ইডেন এখন অতীত। ফাইনালে নতুন করে শুরু করার কথা বলে গেলেন নিউজিল্যান্ড তারকা। বরুণ চক্রবর্তী নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। বিশ্বকাপের আগে ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলেছিলেন তাঁরা। তাছাড়া বিশ্বকাপের শুরুর দিকে বরুণকে নিয়ে যতটা আশা তৈরি হয়েছিল, শেষ কয়েকটা ম্যাচের পর তা অনেকটাই কমেছে। তবে ফিলিপসরা সামান্য আত্মতুষ্টিতেও ভুগতে চাইছেন না। বরুণের ফর্ম যাই থাকুক না কেন, তাঁরা অনেক বেশি সতর্ক। ফিলিপসের কথায়, "এর আগে বেশ কয়েকবার ওর বিরুদ্ধে আমরা খেলেছি। সেটা অবশ্যই কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। বরুণ বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। বেশি কিছু ভাবছি না। প্রত্যকটা ডেলিভারি দেখে খেলতে হবে।" একইসঙ্গে জশপ্রীত বুমরাহ নিয়েও কথা বলে গেলেন তিনি। কিউয়ি তারকা বলছিলেন, "বুমরাহ দুর্ধর্ষ। ওর হাতে প্রচুর বৈচিত্র্য। দারুণ ইয়র্কার করতে পারে। ডেথ ওভারেও দুর্ধর্ষ। তবে কী বলুন তো, মানুষের এক-আধ দিন খারাপ যেতেই পারে। আশা করছি, ফাইনালে আমাদের টিম বুমরাহকে দারুণভাবে সামলাবে।"
আহমেদাবাদে সূর্যরা। ছবি সৌজন্য: বিসিসিআই
এ তো গেল ক্রিকেটীয় ব্যাপার-স্যাপার। এর বাইরেও ফাইনালে আরও অনেক কিছু থাকছে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সমাপ্তি অনুষ্ঠান থাকছে। যেখানে পারফর্ম করবেন রিকি মার্টিন, সুখবিন্দর সিং, ফাল্গুনি পাঠক। ফাইনালে উপস্থিত থাকার কথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসবেন কি না, সেটা এখনও চূড়ান্ত নয়। একইসঙ্গে একঝাঁক বলিউডি তারকাও আসছেন। তবে কারা আসছেন, সেই তালিকা এখনও জানা যায়নি। গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্তা বলছিলেন, 'এখানে আগে থেকে কিছু বলা যায় না। একেবারে শেষ মুহূর্তে তারকার লিস্ট আসে। তবে বলিউডের অনেকে যে আসবেন, সেটা নিশ্চিত।" সবমিলিয়ে রবিবাসরীয় ফাইনালের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত আহমেদাবাদ।
