টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup) গ্রুপ পর্বে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান। পাক সরকার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই প্রশ্ন ওঠা শুরু করেছে, তাহলে কি বড়সড় শাস্তি পেতে চলেছে পিসিবি? শোনা যাচ্ছে আইসিসি ইতিমধ্যেই বৈঠকে বসেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পাক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যেতে পারে।
তবে পাকিস্তান এখনও আশাবাদী, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করলেও কোনও শাস্তি পেতে হবে না তাদের। পাক বোর্ডের প্রাক্তন কর্তা তথা প্রাক্তন আইসিসি চেয়ারম্যান এহসান মানি বলছেন, "যদি পাকিস্তান সরকারি নির্দেশ মেনে ভারতের বিরুদ্ধে না খেলে, তাহলে কোনওরকম শাস্তি হতে পারে না। কারণ এই একই অপরাধে আইসিসি আগে শাস্তি দেয়নি। এই একই যুক্তিতে গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তান যায়নি ভারত। তখনও কোনও শাস্তি দেওয়া হয়নি।" মানির বক্তব্য, "অতীতে অন্য দলগুলিকে শাস্তি না দিয়ে পাকিস্তানের জন্য রাস্তা খুলে দিয়েছে আইসিসি।"
প্রাক্তন আইসিসি চেয়ারম্যান এহসান মানি বলছেন, "যদি পাকিস্তান সরকারি নির্দেশ মেনে ভারতের বিরুদ্ধে না খেলে, তাহলে কোনওরকম শাস্তি হতে পারে না। কারণ এই একই অপরাধে আইসিসি আগে শাস্তি দেয়নি।"
উল্লেখ্য, অতীতেও একাধিক বার একাধিক দেশ এই নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েই শেষ মুহূর্তে আইসিসি ইভেন্ট খেলতে যায়নি। ১৯৯৬ বিশ্বকাপ থেকেই এই নিরাপত্তা ইস্যু চলছে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ছিল শ্রীলঙ্কা, ভারত ও পাকিস্তান। সেসময় প্রভাকরণের নেতৃত্বে তামিলদের বিদ্রোহে শ্রীলঙ্কা অগ্নিগর্ভ। সে বছর শ্রীলঙ্কায় খেলতে যেতে অস্বীকার করে একাধিক দেশ। সেবার গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলেনি অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নিরাপত্তা বিতর্ক ফেরে ২০০৩ বিশ্বকাপে। এবার জিম্বাবোয়ের তৎকালীন স্বৈরশাসক রবার্ট মুগাবের অত্যাচারের প্রতিবাদ করে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল জিম্বাবোয়েতে খেলতে যেতে অস্বীকার করে। ওই একই বিশ্বকাপে নিরাপত্তার কারণে কেনিয়াতে দল পাঠাতে রাজি হয়নি নিউজিল্যান্ড। যার ফল ভুগতে হয় নিউজিল্যান্ডকেও। তারাও সুপার সিক্সে যেতে পারেনি। ২০০৯ সালে রাজনৈতিক কারণেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে যায়নি জিম্বাবোয়ে। প্রতিক্ষেত্রেই এই দলগুলিকে বাদ দিয়েই ওই ম্যাচ হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিপক্ষ দলকে পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। তবে এরপর আর বড় কোনও শাস্তি পেতে হয়নি বয়কটকারী দেশকে। সেটাই এখন ভরসার জায়গা পাকিস্তানের।
