শনিবারের মুম্বইয়ে ভারত বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটীয় লড়াই নিয়ে মজার একটা ট্যাগলাইন দেওয়া হচ্ছে!
আধার কার্ড বনাম গ্রিন কার্ড।
আসলে লড়াইটা দু'টো দেশের হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু মার্কিন দলটায় জনা পাঁচেক ক্রিকেটার এমন রয়েছেন, যাঁদের জন্ম ভারতে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার জুনিয়র পর্যায়ে ভারতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলেছেন। অধিনায়ক মোনাক প্যাটেলের জন্ম যেমন গুজরাটে। শোনা গেল, আমেরিকা অধিনায়কের পুরো পরিবার শনিবার ওয়াংখেড়েতে আসছেন ম্যাচ দেখতে। তাঁরা একটা বক্সও বুক করে ফেলেছেন। সৌরভ নেত্রভালকর যেমন একটা সময়ে ওয়াংখেড়েতে খেলতেন। এটা তাঁর ঘরের মাঠও বটে! শনিবার ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগে কোথাও গিয়ে আবেগ গ্রাস করছে সৌরভকে। বলছিলেন, "মুম্বইয়ে একটা সময় প্রচুর ক্রিকেট খেলেছি। সেই ওয়াংখেড়েতে ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ খেলতে নামব। মনে হচ্ছে, একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।"
ভারতীয় ড্রেসিংরুমে অবশ্য আবেগের কোনও জায়গা নেই। থাকবেই বা কী করে? টুর্নমেন্ট শুরুর আগেই যে চোট তাড়া করতে শুরু করল ভারতীয় টিমকে। ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর চব্বিশ ঘন্টা আগে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেন পেসার হর্ষিত রানা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ার্ম আপ ম্যাচ খেলতে গিয়ে যাঁর হাঁটুতে চোট লেগেছিল। এ দিন দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করতে বসে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলছিলেন, "জানি না ও পারবে কি না। আমরা খেলার দিন সকালে সিদ্ধান্ত নেব। তবে হর্ষিতকে দেখে খুব একটা ভালো লাগছে না।" রাতে সূর্য-র আশঙ্কাই সত্যি হল। হর্ষিতের পরিবর্ত হিসেবে টিমে এলেন মহম্মদ সিরাজ।
তার উপর টিমের ট্রফি ধরে রাখার বাড়তি চাপ। এখনও পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনও টিম নিজেদের দেশে ট্রফি জেতেনি। তিনবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেনি। সে দিক থেকে ভারতের সামনে ইতিহাসের হাতছানি। চোট-আঘাত সত্ত্বেও সূর্যর তাই যতটা সম্ভব নিজেদের রিলাক্সড রাখার চেষ্টা করছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে রীতিমতো ফুরফুরে দেখাচ্ছিল তাঁকে। হাসছিলেন। মজা করছিলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়। যখন টিম ভালো পারফর্ম করে না, তখনও আপনি এরকম হাসিখুশি ফুরফুরে মেজাজে থাকেন। এটা কি ক্যাপ্টেন হওয়ার পর হয়েছে?
সূর্য মজা করে বলছিলেন, "এমনিতেই বাইরের প্রচুর চাপ। আসলে পুরো ব্যাপারটাই হল, আপনি টিম হিসেবে কতটা এনজয় করছেন। আমার মন্ত্র হল, মাঠে যতক্ষণ থাকবে, সেই সময়টা উপভোগ করো। অবশ্যই চাপ থাকবে। কিন্তু ইতিবাচক দিক হল আমরা প্রচুর সমর্থন পাব। যা আমাদের ভালো খেলতে উদ্বুদ্ধ করবে। ওরা দু'বছর ধরে দেখছে, আমরা কী ধরনের ক্রিকেট খেলছি। তাই সবাইকে বলেছি মাঠে নেমে খেলাটাকে শুধু উপভোগ করো।" এখানে বলে রাখা ভালো, ক্যাপ্টেন শব্দটা নিয়ে প্রবল আপত্তি রয়েছে সূর্যর। তিনি চান না কেউ তাঁকে ক্যাপ্টেন বলে ডাকুক। তিনি চান প্রকৃত নেতা হয়ে উঠতে। তাই বললেন, "ক্যাপ্টেন নয়, আমাকে লিডার বলুন।" ক্যাপ্টেন হোক বা লিডার, নামে কী যায়ে আসে? কাজ এখন একটাই। বিশ্বকাপ যেন দেশের বাইরে না যায়।
