ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট মহারণ। যুদ্ধ মাঠের বাইরে, যুদ্ধ মাঠের ভিতরেও। তার মধ্যে হাত না মেলানো, বয়কট নাটক এসব নিয়ে যেন চর্চা আরও বেড়েছে। ম্যাচে যদিও ভারত একতরফা হারিয়েছে পাকিস্তানকে। তারপর সোশাল মিডিয়ায় পাক-ভক্তদের চরম কটাক্ষ ভারতের সমর্থকদের। সেটা তো চলতেই থাকে। না হলে ভারত-পাক মহারণের কী মানে! না, শুধু 'সাধারণ' সমর্থকদের মধ্যে নয়। ক্রিকেটারদের মধ্যেও একই অবস্থা। আর সেটা ইটালির ড্রেসিংরুমে।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup) নতুন দল ইটালি। তবে পারফরম্যান্সে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন জশপ্রীত সিং, আলি হাসানরা। মাঠে তাঁরা ইটালির প্রতিনিধি। কিন্তু শিকড় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশে। জশপ্রীত জন্মসূত্রে ভারতীয়। আর হাসানের শিকড় পাকিস্তানে। দু'জনেই ইটালি দলে নিয়মিত খেলছেন। এছাড়া আছেন জইন আলি, সৈয়দ নকভিরা।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের দিন ঠিক কেমন ছিল ইটালি দলের ভিতরকার পরিবেশ? খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, একসঙ্গেই ম্যাচ দেখেছেন জশপ্রীত-হাসানরা। না, কোনও ঝগড়া-ঝামেলা হয়নি। করমর্দন করতেও আপত্তি নেই। দিব্যি সবাই মিলে একসঙ্গে ভারত-পাক মহারণ উপভোগ করেছেন। তা বলে অল্পবিস্তর কটাক্ষ-বিদ্রূপ কি চলে না? সেসবও চলে। কিন্তু তার বেশি কিছু নয়। ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক টানাপোড়েন বা বিতর্ক ইটালির ড্রেসিংরুমে প্রভাব ফেলেনি। বরং ইটালির হয়ে পারফর্ম করাটাই ধ্যানজ্ঞান তাঁদের।
এবারের বিশ্বকাপ এক নতুন স্বপ্নের জন্ম দিয়েছে ইটালির জন্য। বিশ্বকাপে ওয়াংখেড়েতে নেপালকে হারানো, কিংবা ইডেনে ইংল্যান্ডের চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে। এই বিশ্বকাপে ৩টি উইকেট পেয়েছেন হাসান। জশপ্রীত সিং ইটালি পেস-আক্রমণের অন্যতম ভরসা। দশ-এগারো বছর বয়সে চলে গিয়েছিলেন ‘কলোসিয়ামে’র দেশে। বিগত বছর কয়েক হল পরিবারকে নিয়ে ইংল্যান্ড ‘শিফট’ হয়েছেন। পেশায় ‘উবের’ চালক জশপ্রীত। তবে ক্রিকেটই ভালোবাসা। বিশ্বকাপে সেটাই প্রমাণ করেছেন ইটালির 'অভিবাসী' ক্রিকেটাররা।
