আজ, বুধবার উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা ছিল না। বাবা ছেলেকে বাইকের পিছনে বসিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু আর বাড়ি ফিরলেন না তাঁরা। ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের প্রাণ চলে গেল। গাড়ির ধাক্কায় বাবা-ছেলে রাস্তায় পড়ে যান। তখনই তাঁদের পিষে দিয়ে যায় গাড়ির চাকা। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের (Medinipur) দাঁতনে।
শুক্রবার ইংরাজি পরীক্ষা দিয়েছিল বছর ১৮ বয়সের সোমনাথ সাউ। আগামী কাল বৃহস্পতিবার উচ্চ মাধ্যমিকের সংস্কৃত পরীক্ষা। প্রস্তুতিও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কলম ধরার বদলে চিরঘুমে চলে গেল দাঁতনের মেধাবি ছাত্র সোমনাথ। বুধবার সকালে খড়্গপুর-বালেশ্বর ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে দাঁতন থানার হাসিমপুরে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল সে। বাবা হরিপদ সাউও মারা গিয়েছেন দুর্ঘটনায়। এই জোড়া মৃত্যুতে দাঁতন এক নম্বর ব্লকের শালিকোঠা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের শরশঙ্কা এলাকার বকুলতলা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত হরিপদবাবু পেশায় বিদ্যুৎকর্মী ছিলেন। তাঁর ছোট ছেলে সোমনাথ দাঁতন ভাগবতচরণ হাই স্কুলের কলাবিভাগের ছাত্র ছিল। চলতি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিল সে। বাংলা ও ইংরাজি পরীক্ষাও নির্বিঘ্নে দিয়েছিল। কয়েকদিন পরীক্ষা না থাকায় কিছুটা চাপমুক্ত ছিল সোমনাথ। তাই বাবার কাজে সহযোগিতা করতে বুধবার সকালে মোটরবাইকে চড়ে সোনাকোনিয়ার দিকে যাচ্ছিল সোমনাথ। হাসিমপুরের কাছে জাতীয় সড়কে বাঁক নিতে যাওয়ার সময় ঘটে দুর্ঘটনা। ওড়িশাগামী একটি দ্রুতগামী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইকের পিছনে ধাক্কা মারে। বাবা-ছেলে রাস্তায় ছিটকে পড়লে তাঁদের পিষে দিয়ে চলে যায় ওই গাড়িটি!
স্থানীয়রা উদ্ধার করে দাঁতন গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়েছে ওই পরিবারে। শোকের ছায়া এলাকায়। দাঁতন থানার পুলিশ ঘাতক গাড়িটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে। চালককে পাকড়াও করেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
