ক্রিকেট নয়, যেন যুদ্ধ। বিশ্বকাপ (T20 World Cup) তো শুধু ট্রফির লড়াই নয়, দেশের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরার লড়াই। কিন্তু যদি এমন নয়, দলের কোনও ক্রিকেটার আসলে কখনও সেই দেশে পা রাখেননি। আজ্ঞে হ্যাঁ। সেটাই ঘটছে। ইটালির ক্রিকেটার জন জন স্মাটস কখনও ইটালিতে যাননি। তাহলে সেই দেশের হয়ে খেলছেন কীভাবে?
অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে নিজের দেশে ফিরতে পারেন না ক্রীড়াবিদরা। আফগানিস্তানের ক্রিকেটারদের অনেককে এই সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু স্মাটসের ঘটনা সেরকম নয়। জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায়, এখন থাকেন দুবাইয়ে। শ্বশুরবাড়ি ইটালিতে। সেই সূত্রে ইটালির হয়ে খেলার 'যোগ্য'। একসময় প্রোটিয়াদের জার্সিও পরেছেন। ১৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া লিগে দীর্ঘদিন খেলা ক্রিকেটার বিশ্বাস করেন 'আজ্জুরি'রা অঘটন ঘটাতে তৈরি।
কিন্তু শ্বশুরবাড়ি যে বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় দেশ। রোম, ফ্লোরেন্স, ভেনিসে দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক ঘুরতে যান। শুধু স্মাটসই যাননি। তবে দূরে থেকেও ইটালিয়ান হয়ে গিয়েছেন তিনি। স্মাটস বলছেন, "ইটালির লোকজন খুবই আবেগপ্রবণ। খেলার সময় সেই আবেগটা ফুটে ওঠে। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের সময় সেটা বুঝতে পেরেছি।" ওই ম্যাচে ৩৭ বছর বয়সি স্মাটস ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট পেয়েছিলেন।
ইটালির জার্সিতে বিশ্বকাপে খেলবেন জন জন স্মাটস। ফাইল ছবি
প্রাথমিক ভাবে 'দেশবদলের' কোনও পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু স্ত্রী জুডি স্মাটস পূর্বপুরুষদের সূত্র ধরে ইটালিয়ান পাসপোর্টের ব্যবস্থা করেন। ইটালি যখন বিশ্বকাপের জন্য অভিজ্ঞ প্লেয়ারদের খোঁজখবর শুরু করে, তখনই তাঁর ডাক পড়ে। কখনই ভাবেননি বিশ্বকাপ খেলা হবে। তার একটা অন্য কারণও আছে। পুরো কেরিয়ারজুড়ে টাইপ-১ ডায়াবেটিস ভুগিয়েছে। প্রতিদিন রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা হত এবং দিনে চারবার ইনসুলিন নিতে হত। সেসব বাধা অতিক্রম করে বিশ্বকাপে নামবেন স্মাটস। সাক্ষী থাকবে ইডেনও।
