পালটি খাওয়া শুরু পাকিস্তানের। বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না বলে জেদ ধরে বসেছিল। কিন্তু তাতে যে বিরাট ক্ষতি হবে, সেই ভয়ও ভিতরে ভিতরে ছিল। সেসব বুঝেই পালটি খাওয়া শুরু। কিন্তু মত বদল করতে চললেও সৎ সাহস নেই। বরং শ্রীলঙ্কাকে 'অজুহাত' হিসেবে খাঁড়া করে ভারত ম্যাচ খেলতে চলেছে পাক বাহিনী।
আইসিসি’র কাছে শাস্তির আশঙ্কা সত্ত্বেও কলম্বোয় ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়ে রেখেছে পাক বোর্ড। তারপর ভারত-পাক ম্যাচ নিয়ে আসরে নামে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে খেলার হুঁশিয়ারি দিয়ে কড়া চিঠি লিখেছে তারা। সেখানে ১৭ বছর আগে লাহোরের জঙ্গিহানার কথাও পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র। পাকিস্তান সত্যিই যদি ভারতের বিরুদ্ধে না খেলে, তাহলে বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে অন্যতম আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কাও। চিঠিতে পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ম্যাচটি না হলে খুবই খারাপ প্রভাব পড়বে। আর্থিক, পর্যটন খাতে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও ভাবছে শ্রীলঙ্কার যাতে কোনও 'ক্ষতি' না হয়। 'বন্ধু' দেশের জন্য দরদ উথলে উঠছে তাদের। পাক বোর্ডের এক সূত্র শনিবার জানিয়েছেন, "শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের সম্পর্ক ভালো। ক্রিকেটের দিক থেকেও আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাই শ্রীলঙ্কার বোর্ডের চিঠি পাকিস্তান কোনও ভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না। বোর্ড প্রধান মহসিন নকভির সঙ্গে শ্রীলঙ্কা বোর্ডের সভাপতি শাম্মি সিলভার কথা হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ম্যাচ না খেললে তাদের কত ক্ষতি হবে।"
ওই সূত্রের আরও দাবি, "নকভি দেশে নেই। তিনি শনিবারই ফিরবেন। বিষয়টা তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নজরেও আনবেন। চেষ্টা করা হবে সোমবারের মধ্যে বয়কটের সিদ্ধান্ত যাতে বদলানো যায়।"
শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের সম্পর্ক ভালো। ক্রিকেটের দিক থেকেও আমরা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাই শ্রীলঙ্কার বোর্ডের চিঠি পাকিস্তান কোনও ভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না। বোর্ড প্রধান মহসিন নকভির সঙ্গে শ্রীলঙ্কা বোর্ডের সভাপতি শাম্মি সিলভার কথা হয়েছে।
পিসিবি-ও একটা বিষয় ভালো করেই জানে, ভারত ম্যাচ বয়কট করলে তাদেরও কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে। আইসিসির যেমন বিপুল আর্থিক ক্ষতি হবে, তেমনই তাদেরও বিশাল ক্ষতির সামনে পড়তে হবে। সঙ্গে নির্বাসনেরও মুখেও পড়তে হতে পারে। যা তাদের দেশের ক্রিকেটকে ‘পঙ্গু’ করে দিতে যথেষ্ট। তাই সুযোগ বুঝে যদি শেষপর্যন্ত অর্থের কাছে পাকিস্তান বোর্ড যদি ‘বিক্রি’ হয়ে সমঝোতা করে, তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
