বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত যে আত্মঘাতী হতে চলেছে সেটা জানতেন বাংলাদেশের ক্রিকেট কর্তারা। লিটন দাস, নাজমুল শান্তদের সঙ্গে যে অন্যায় হচ্ছে সেটাও জানতেন। এর ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুদূরপ্রসারী ক্ষতি হতে পারে সেটাও অজানা ছিল না আমিনুল ইসলাম বুলবুলদের। তারপরও কেন বিশ্বকাপ বয়কট? এর নেপথ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভির হাত দেখছেন বাংলাদেশের প্রথম সারির ক্রিকেট প্রশাসক আশরাফুল হক।
আশরাফুল হক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রথম সারির ক্রিকেট প্রশাসক। এসিসির সিইও পদেও ছিলেন। সেই আশরাফুল মনে করছেন, পাকিস্তানের উসকানিতেই বিশ্বকাপ না খেলার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। আর তাতে ক্ষতি শুধুই বাংলাদেশ ক্রিকেটের। রেভস্পোর্টস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আশরাফুল দাবি করেছেন, "এটা বড্ড অপরিণত সিদ্ধান্ত। আসলে সেই সময় সরকার ভারত বিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে চলছিল। আর বিসিবি সভাপতি আমিনুল সরকারকে খুশি করার চেষ্টায় ছিলেন। নিজের ক্রিকেটারদের বাঁচানোর কোনও চেষ্টা দেখা যায়নি।"
আশরাফুল মনে করছেন, "আমিনুল ক্রিকেট প্রশাসক। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনের জটিলতা তিনি বুঝতে পারেননি। ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেছেন। লিটন দাস, সৌম্য সরকার, নাজমুল শান্তরা এখন তিরিশের কোঠায়। তাঁদের সঙ্গে অন্যায় হল।" আশরাফুলের সাফ কথা, "আমিনুল নকভির উসকানিতে প্রভাবিত হয়েছেন। নকভি ওকে বুঝিয়েছে, ল্যাজুড় হিসাবে থাকলে উপকার হবে। দিনের শেষে কার উপকার হল?"
উল্লেখ্য, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে ছাঁটাইয়ের পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসেনি বাংলাদেশ। তাঁদের দাবি ছিল, ম্যাচ সরাতে হবে শ্রীলঙ্কায়। আইসিসি বারবার নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দিলেও গোঁ ধরে বসেছিলেন বিসিবি প্রধান। ফলে শেষমেশ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের জন্য পরোক্ষে পাকিস্তানকেই দাবি করেছেন আশরাফুল। তাঁর সাফ কথা, অহেতুক ভারত বিরোধিতার কোনও মানে হয় না। ভারতই বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বন্ধু।
